রোববার   ১৪ জুন ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩৩   ২৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

পুলিশের মারধর ও হয়রানির বর্ণনা দিলেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৪০ এএম, ১৪ জুন ২০২৬ রোববার

চট্টগ্রামে পুলিশের মারধর ও হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলেছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও তার সমর্থকেরা পাশে না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নাঈম বলেন, ‘যখন আমাকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়, তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। সেখানে জড়ো হওয়া প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন সমর্থক ভাইয়া না থাকলে ঘটনাটি অন্য রকম হতে পারত। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। পরে পুলিশ যখন আমাকে খুলশী থানায় নিয়ে যায়, তখনও তারা আমার সঙ্গে ছিলেন। লালখান বাজার থেকে রাতেই অনেকেই থানায় যান। তাই অন্য কিছু করার সুযোগ পায়নি।’

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমি সাদাসিধে জীবনযাপন করি। পুলিশ চাইলে আমার সঙ্গে থাকা সবকিছু তল্লাশি করতে পারত। কিন্তু যখন আমাকে সিএনজিতে তোলা হয়, তখন বুঝতে পারিনি যে গলা চেপে ধরা হবে। এতে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। থানায় গিয়ে আমার সঙ্গে থাকা পিন পর্যন্ত তাদের দেখিয়েছি।’

নাঈম দাবি করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। তিনি বলেন, ‘তামিম ভাই ফোন করেছিলেন বলেই কাজ হয়েছে। তিনি যখন ওসির সঙ্গে কথা বলছিলেন, আমি কিছু বলতে চাইলে ওসি আমাকে আঙুল তুলে চুপ থাকতে বলেন।’

ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত উল্লেখ করে নাঈম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কিছুটা সময় একা থাকতে চাই।’

গত শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বিমানযোগে চট্টগ্রামে ফেরেন নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে নগরের লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ তার গাড়ি থামায়। এরপর তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর ও পরে খুলশী থানায় নিয়ে গিয়ে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাঈমের অভিযোগ, খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশের সোর্স সোহেল তাকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাকে থানা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের আগেই খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া অভিযুক্ত সোর্স সোহেলকে আটক করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এ তথ্য জানান।