৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট: থাকছে ‘প্রবাসী কার্ড’
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৩৯ এএম, ১৩ জুন ২০২৬ শনিবার
বাংলাদেশের আগামী অর্থবছরে (২০২৬-২৭) জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পাশাপাশি প্রবাসী আয়ে বিদ্যমান আড়াই শতাংশ প্রণোদনাও বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় এমন ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রবাসীকল্যাণ সেবা, বিমা, ব্যাংকিং সুবিধা ও জরুরি সহায়তার সঙ্গে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে। এতে তারা এক কার্ডের মাধ্যমেই সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও আইনি সুরক্ষা ভোগ করতে পারবেন।
সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে বিএনপি সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ ছাড়া বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ধরে রাখতে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, নতুন বিকল্প শ্রমবাজার সন্ধান ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কিছু পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানো উৎসাহিত করতে বিদ্যমান আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই অর্থাৎ গত মার্চ মাসে প্রবাসী আয় প্রবাহ ৩৭৫ কোটি ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ ধরে রাখতে প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে সরকার রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসেডোনিয়া-এই দেশগুলোর সঙ্গে ইতিমধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পেশাভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেয়ার পাশাপাশি বিদেশে যেসব কাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, সেগুলোর জন্য বিশেষ কোর্স ও পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু হয়েছে। বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও সনদের মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে সব ধরনের ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) অব্যাহতির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল এবং স্টার্টআপ খাতের জন্য আগামী ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে কয়েক ধরনের ভ্যাট অব্যাহতিরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, আর্থিক খাত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছে। এতে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।
এ বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতনসহ পরিচালন খাতেই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩ লাখ কোটি টাকা এবং অন্যান্য উন্নয়ন ব্যয়ে ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
নতুন সরকারের প্রথম এ বাজেটে অর্থনীতির পুনর্গঠন, আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরির একটি উচ্চাভিলাষী রূপরেখা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। নতুন বাজেটে ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে, এগুলো হচ্ছে- সবার জন্য উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি, ব্যবসা সহজীকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা।
