শুক্রবার   ১২ জুন ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩৩   ২৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

যে কোনো হামলার জবাব দিতে ইরানের বাহিনী প্রস্তুত

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৫৮ এএম, ১২ জুন ২০২৬ শুক্রবার

ইরানের এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যে কোনো হুমকির জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আম্বিয়ার কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের কমান্ডার আলী আব্দুল্লাহি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতি, সতর্কতা এবং গোয়েন্দা সক্ষমতা নিয়ে দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যে কোনো হুমকির জবাবে ফলপ্রসূ, বেদনাদায়ক ও অনুতাপ সৃষ্টিকারী অভিযান পরিচালনা করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত আগ্রাসনের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এ বিবৃতিতে তিনি যুদ্ধে নিহতদের স্মরণ করেন।

জেনারেল আবদুল্লাহি বলেন, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, ইরানের জনগণ ঐক্য, দৃঢ়তা, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা অনুসরণ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত।

তিনি দাবি করেন, শত্রুরা ভুল হিসাব ও বিভ্রান্তিকর ধারণার ভিত্তিতে তাদের অশুভ লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং কৌশলগত ও অপমানজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে।

কমান্ডার আরও বলেন, ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি জনগণের অব্যাহত সমর্থন, বিপ্লবের নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্য এবং শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিকে তিনি জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও প্রতিরোধের পথের প্রতি সমর্থনের স্থায়ী প্রতীক হিসেবে দেখেন।

তিনি দাবি করেন, ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে জনগণের রাস্তায় উপস্থিতি দেশের প্রতিরোধক্ষমতা জোরদারে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেছে।

জেনারেল আবদুল্লাহি বলেন, ইরানের মর্যাদা ও শক্তির জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের পথ অব্যাহত থাকবে এবং এই দেশের স্বাধীনতা, প্রতিরোধ ও গৌরবের পতাকা উঁচু থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪-এর আওতায় ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায়। এতে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে শত শত ব্যালিস্টিক, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর ৪০ দিন পর, ৮ এপ্রিল ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করে।

এরপর থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়, যার জবাবে ইরান কঠোর পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ