শুক্রবার   ১২ জুন ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩৩   ২৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

‘ধানক্ষেত’ নয়, ভালো উইকেটে খেলে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো গ্রেট অর্জন

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:২৭ এএম, ১২ জুন ২০২৬ শুক্রবার

কয়েক বছর আগেও উপমহাদেশের বাইরের দলগুলোর বিপক্ষে স্পিন-সহায়ক উইকেটে খেলতো বাংলাদেশ। সেই সব উইকেটকে অনেকেই ‘ধানক্ষেত’ নামে আখ্যা দিয়েছিল।

ওইসব উইকেটে সাময়িক সাফল্য এলেও ক্রিকেটীয় উন্নতির দিক থেকে বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে ছিল।

২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফর করেছিল। সে সময় অজিদের বিপক্ষে খেলা হয়েছিল স্পিন-সহায়ক উইকেটে। এমন উইকেটে ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়।

তখন সাকিব আল হাসান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মিরপুরে নিয়মিত খেললে ব্যাটারদের ক্যারিয়ারই হুমকির মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলেও সেটির বড় কোনো প্রভাব বিশ্বমঞ্চে দেখা যায়নি।

এবার ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসে। সিরিজ শুরুর আগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল উইকেট কেমন হবে। তবে গত কয়েক সিরিজ ধরে মিরপুরে স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও দেখা যায় ব্যাটিং-বোলিং সহায়ক উইকেট। আর সেখানেই দারুণ আধিপত্য দেখিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। 

ভালো উইকেটে খেলে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই জয়কে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তাসকিন আহমেদ, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এটা গ্রেট ফিলিং। খুবই ভালো লাগছে। ওদের ব্যাটিংয়ের সময় আমরা চেষ্টা করেছি যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে। পরে ওদের পার্টনারশিপও হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা জিততে পেরেছি। এটা গ্রেট ফিলিং যে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের সঙ্গে আমরা ভালো খেলতে পারছি। আমরা উইকেট নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারবে না। ভালো উইকেটে খেলছি, এমন না যে ‘ধানক্ষেতে’ খেলছি। ভালো দলের সঙ্গে জিতছি—সো ইটস এ গ্রেট অ্যাচিভমেন্ট।’

টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখনও কেবল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারেনি। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করার পর এখন কেবল বাকি ইংল্যান্ড।  

ছয় বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হারিয়ে ঐত্যিহাসিক জয়ের পর তাসকিন আরও বলেন, ‘এটা অনেক স্মরণীয়। শুধু আমার জন্য না, সবার জন্যই। আমরা এই প্রথম সিরিজ জিতলাম ওদের সঙ্গে। এখনও একটা ম্যাচ বাকি, আশা করি সেটাও ভালোভাবে শেষ হবে। এটা স্বস্তির জায়গা যে আমরা ভালো উইকেটে খেলেই জিতেছি। প্রথম ম্যাচেও ভালো ব্যাটিং হয়েছে, মাঝখানে কিছুটা কলাপ্স না হলে ৩০০ প্লাসও হতে পারত। আজকের ম্যাচটা একটু টাইট ছিল। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের সঙ্গে জেতা আমাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।’

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের তোপে পড়ে রীতিমতো বিপর্যস্ত হয় সফরকারীরা। তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের আগুনঝরা বোলিংয়ে শূন্য রানে তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ওয়ানডে ইতিহাসে শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি মাত্র চতুর্থ ঘটনা। এর আগে দুইবার পাকিস্তান এবং একবার বাংলাদেশ এই পরিস্থিতিতে পড়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো অস্ট্রেলিয়া।

শুরুর সাফল্য নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘ডেফিনেটলি স্টার্টটা ভালো হলে প্রতিপক্ষ সবসময় আন্ডার প্রেশারে থাকে। আমরা শুরুতেই প্রথম এক ঘণ্টার অ্যাডভান্টেজটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পেরেছি। সকালে কিছুটা সুইং হচ্ছিল। আমি আর ফিজ ভালো শুরু করায় কাজটা সহজ হয়েছে। পরের দিকে উইকেট কিছুটা ব্যাটিংবান্ধব হচ্ছিল। পাওয়ারপ্লেতে ভালো স্টার্ট পাওয়া আমাদের দলের জন্য বড় শক্তি।’

সিরিজের প্রথম ম্যাচে প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার পর আজও প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন তাসকিন। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে দেন ম্যাথিউ শর্ট, কিন্তু বল ভেতরে ঢুকে স্টাম্প ভেঙে দেয়। মাত্র চার বল খেলে শূন্য রানে ফেরেন তিনি। টানা তিন ওয়ানডেতে শূন্য রানে আউট হলেন এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার।

শর্টকে টানা দুই ম্যাচে ফেরানো নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের প্রত্যেক দলে কম্পিউটার অ্যানালাইসিস থাকে। প্রত্যেক ব্যাটার ও বোলার নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা থাকে—কার কোথায় দুর্বলতা, কার কোথায় শক্তি। আমি শুধু চেষ্টা করি। যখন ভালো রিদমে থাকি, তখন এক্সিকিউশন সহজ হয়। অনেক সময় ভালো বল করেও উইকেট আসে না, আবার কখনও ভাগ্যও লাগে। কিন্তু চেষ্টা থাকে নিজের জায়গা থেকে। সেটাই করি।