বৃহস্পতিবার   ১১ জুন ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩   ২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

হোয়াটসঅ্যাপে সাইবার হামলা

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:০৯ এএম, ১১ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার প্রস্তুতকারক সংস্থা এনএসও গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞা জারির আট মাস পার হতে না হতেই পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হলো হোয়াটসঅ্যাপ এবং এর মূল সংস্থা মেটা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে দায়ের করা নতুন অভিযোগে মেটা দাবি করেছে, এনএসও গ্রুপ আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই লঙ্ঘন করেছে এবং তাদের কুখ্যাত 'পেগাসাস' স্পাইওয়্যার পরিচালনার স্বার্থে এখনও এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটিকে ব্যবহার করে চলেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তর জেলা আদালতে দায়ের করা একটি আদালত অবমাননার আবেদনে মেটা জানিয়েছে, এনএসও গ্রুপ যে আদালতের নির্দেশ অমান্য করছে তার "স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ" তাদের কাছে রয়েছে। এই কারণে বিচারক ফিলিস হ্যামিল্টনের কাছে এনএসও-র বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপের দাবি জানিয়েছে মেটা।

হোয়াটসঅ্যাপ এবং এনএসও গ্রুপের মধ্যকার এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন হোয়াটসঅ্যাপ প্রথম অভিযোগ তোলে যে এনএসও তাদের পরিকাঠামো ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১,৪০০ ব্যবহারকারীর ফোনে পেগাসাস স্পাইওয়্যার ঢুকিয়েছে। দীর্ঘ শুনানির পর, গত বছরের অক্টোবরে আদালত এনএসও-র ওপর একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যা চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।

এই নির্দেশ অনুযায়ী, এনএসও-র হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট তৈরি করা, প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কোনো প্রযুক্তিগত যোগাযোগ রাখা বা হোয়াটসঅ্যাপের কোড ব্যবহার করার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু মেটার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স টিম জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এনএসও-র সঙ্গে যুক্ত অন্তত ২৩টি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট এবং ৩৪টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে।

গিনি, তানজানিয়া, মালি ও এল সালভাদরের মতো অন্তত ১৩টি দেশে "টেস্টিং গ্রুপ" তৈরি করে স্পাইওয়্যারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছিল। এমনকি একটি অ্যাকাউন্টের পাঠানো ছবিতে ডেস্কটপ ম্যাটের ওপর খোদ এনএসও গ্রুপের লোগোও দেখতে পেয়েছেন মেটার নিরাপত্তা প্রকৌশলীরা। মেটা আদালতের কাছে যুক্তি দিয়েছে যে, সাধারণ নির্দেশ বা হালকা কোনো জরিমানা দিয়ে এনএসও গ্রুপকে দমানো সম্ভব নয়, কারণ তারা বিচার ব্যবস্থার ক্ষমতাকে ক্রমাগত এড়ানোর চেষ্টা করছে।

তাই সংস্থাটি দাবি করেছে, যতদিন না এনএসও সম্পূর্ণভাবে আদালতের নির্দেশ মেনে চলছে, ততদিন যেন তাদের ওপর প্রতিদিন ক্রমবর্ধমান হারে জরিমানা চাপানো হয়। একই সঙ্গে, এনএসও-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানকে সশরীরে হলফনামা দিয়ে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক, সমাজকর্মী, রাজনীতিক ও কূটনীতিকদের ফোনে নজরদারির জন্য এই পেগাসাস স্পাইওয়্যার বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। ভারতের ক্ষেত্রেও ২০১৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপ সরকারকে জানিয়েছিল যে ১২১ জন ভারতীয় ব্যবহারকারী এর শিকার হয়েছেন এবং ২০২১ সালে এক আন্তর্জাতিক মিডিয়া কনসোর্টিয়ামের তদন্তে প্রকাশ পায় যে ভারতের একাধিক বিরোধী নেতা ও সাংবাদিকদের ফোন এই স্পাইওয়্যারের নিশানা ছিল। তবে ভারত সরকার কখনোই পেগাসাস ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট করে স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।