সংকট মোকাবিলার বাজেট আজ
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:০০ এএম, ১১ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার
সংকট ও চ্যালেঞ্জকে সঙ্গী করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল আকারের বাজেট ঘোষণা করবেন আজ। যেখানে চলতি বছরের বাজেটের আকার ধরা হয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এ বাজেটে আছে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনপ্রত্যাশার অসীম চাপও। একদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, মাছ, মাংস, আলু, পিঁয়াজ-রসুনসহ ৬০টি খাদ্যপণ্যের ওপর থেকে উৎসে কর কমানোর ঘোষণা দেবেন অর্থমন্ত্রী। দীর্ঘ ২০ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এসে বাজেট ঘোষণার ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দুজনেরই অভিষেক হতে যাচ্ছে আজ। তবে এটি হবে বিএনপি সরকারের ১৭তম বাজেট। বাজেট উপস্থাপনের আগে সংসদ ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাজেট অনুমোদন দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর তা উপস্থাপন করা হবে। জানা গেছে, বাজেটে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও স্থানীয় সরকার খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশের বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণ, বৈশ্বিক চাপ মোকাবিলা, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানিসংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ভারসাম্য আনয়ন, সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া এবং দুর্বল আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ সামলাতে বিভিন্ন খাতে চলমান সংস্কার অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
যেখানে শুধু উচ্চাভিলাষী ব্যয়ই নয়, একইভাবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। তারপরও বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকছে। এ ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে বরাবরের মতো বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ খাতের ওপর নির্ভর করতে হবে। আবার ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উৎসকে বেছে নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে এবার বাজেটের আকার বাড়ানো হচ্ছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে চলতি বাজেটের তুলনায় ১৮.৭৩ শতাংশ বেশি। যা ইতিহাসের রেকর্ড বৃদ্ধি।
বাজেটের পরিকল্পনায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, নির্বাচনি ইশতেহারের বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষাজালের সম্প্রসারণ, কল্যাণকর অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ১৩টি ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। যা বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ। এ খাতের অধীনে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী। যা আগের বছরের তুলনায় অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ ছাড়া এ খাতের আওতার সঙ্গে বাড়ানো হবে উপকারভোগীর সংখ্যাও।
অর্থ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ২০ বছর পর দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসা অভিষিক্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান তাঁর এই প্রথম বাজেটটাকে দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখতে চান। অবশ্য অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও এটি প্রথম বাজেট। যা আজ বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
এত সব চ্যালেঞ্জ ও সংকট সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার একটা জোর চেষ্টা থাকবে আজকের বাজেটে। এজন্য চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, মাছ, মাংসসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী। এতে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করে সরকার।
প্রবৃদ্ধি ৬.৫, মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশ : ২০২৬-২৭ বাজেটের খসড়া নথির তথ্যমতে, বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। অবশ্য বিশ্বব্যাংক বলছে, এ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ শতাংশের কম। এমনকি বৈশ্বিক অচলাবস্থা এবং ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের ফলে আগামী বছরও বিশ্ব অর্থনীতিতে ধীরগতি চলমান থাকবে। তবু বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত সরকার উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কেননা টানা কয়েক বছর দেশের মূল্যস্ফীতি প্রায় দুই অঙ্কের কাছাকাছি বিরাজ করছে। যেখানে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে দেশের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে কয়েক দিন আগে।
বাজেটের আয়-ব্যয় : আগামী ২০২৬-২৭ বাজেটের মোট আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যা এক বছরের জন্য সরকারের মোট ব্যয় হিসেবে ধরা হয়। যেখানে সরকারের পরিচালন ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে দেখানো হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। যা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) হিসেবে ইতোমধ্যে অনুমোদন করা হয়েছে।
আসছে বাজেটে সরকারের প্রধান আয়ের ক্ষেত্র বরাবরের মতো এনবিআর। তবে এ বছর এনবিআরের করের আওতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে ব্যাপকভিত্তিক। রাজস্ব খাত থেকে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর ২৫ হাজার কোটি টাকা, এনটিআর খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বাজেটের মোট ব্যয়ের বাকি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
আগামী বছরের জন্য চিহ্নিত আট চ্যালেঞ্জ : মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব সংগ্রহের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, চলমান কৃচ্ছ্রসাধন নীতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসা, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারে প্রয়োজনীয় ভর্তুকির চাহিদা মিটিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ সঞ্চালন, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি- বিশেষ করে বৈদেশিক অর্থায়নের প্রকল্প গ্রহণের হার কমে আসা, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখা ও বিনিয়োগ পরিবেশ আরও ব্যবসাবান্ধব রাখা এবং ঋণ ধারণ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ঋণের স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি।
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় : কর-প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অটোমেশন জোরদারকরণ করা হবে। আয়কর ও মূল্য সংযোজন করের আওতা বৃদ্ধি ও কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসা। এডিপির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বৈদেশিক অর্থায়নের ব্যবহার বাড়াতে দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ। সীমিত পর্যায়ে কৃচ্ছ্রসাধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা; তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তার পরিধি বিস্তৃত করা। একই সঙ্গে দ্বৈততা পরিহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার জন্য উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন।
বাজেটের অগ্রাধিকার : বাজেটের অগ্রাধিকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি উন্নীতকরণের লক্ষ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। কল্যাণকর অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ইত্যাদির মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তার খাত সম্প্রসারণ। প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি ও দেশেবিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো খাতে ইস্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে সঠিক প্রকল্প নির্বাচনি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ ও উপকরণ নিশ্চিত করা।
সামাজিক সুরক্ষা, ফ্যামিলি কার্ড-কৃষক কার্ড : অধিকসংখ্যক মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার ছাতার নিচে আনতে সরকারের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে এর অধীনে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করেছে। যা বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ। এ খাতের অধীনে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী। যা আগের বছরের তুলনায় অন্তত ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি।
ব্যাপক পরিবর্তন আসছে করকাঠামোতে : দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বড় ধরনের সংস্কার ও জনমুখী কর ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মধ্যমেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার অংশ হিসেবে এই নতুন রাজস্ব কাঠামোর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে করের হার বাড়ানোর চেয়ে কর ভিত্তি সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং সম্পূর্ণ অটোমেশনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও স্বাস্থ্য খাতে স্বস্তির খবর : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং চিকিৎসাসেবা সুলভ করতে বড় ধরনের কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে : কৃষি ও ভোগ্যপণ্য ধান, চাল, গম, আলু, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্য তেল, চিনি ও লবণসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে করের হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে মাত্র ০.৫ শতাংশ করা হচ্ছে। কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ৫% অগ্রিম কর, ১৫% ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা কমবে। এ ছাড়া হার্টের রিং ও চোখের লেন্স সরবরাহে ১০% ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে রিংয়ের দাম প্রায় ২০,০০০ টাকা এবং লেন্সের দাম প্রায় ৫,০০০ টাকা কমবে।
ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুখবর : নতুন, ব্যবসা, নতুন ধারণা ও নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে নতুন বাজেটে। এজন্য ডিজিটাল অর্থনীতি ও তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে বাজেটে অভূতপূর্ব কর ও ভ্যাট ছাড় দেওয়া হয়েছে। আইটি ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়কে সম্পূর্ণ করমুক্ত ও ১৫% ভ্যাট মুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তারুণ্যনির্ভর স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স ০% করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ১৫% ভ্যাট, সেবা আমদানি ভ্যাট এবং স্থান ভাড়া ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত মওকুফ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মোবাইল সেবা সহজলভ্য করতে প্রতিটি সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ০ শতাংশ করহার এবং ব্যবহারকারীদের বিল পরিশোধে ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়া হবে।
ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল দেশে পরিবেশবান্ধব ইভি বাস, ট্রাক ও চার্জিং স্টেশন আমদানির উৎসে কর ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ইভি গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের অগ্রিম কর ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ রোধে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতার ডিজেল বা পেট্রোলচালিত গাড়ির সামগ্রিক করভার ১৩২.৩৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫৫.৮৮% করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
