রোববার   ০৭ জুন ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪৩৩   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

বিজিবির সেনা কর্মকর্তারা দিল্লী যাচ্ছে

হাসান মাহমুদ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৩৭ এএম, ৭ জুন ২০২৬ রোববার

বাংলাদেশ সীমান্তে টানটান উত্তেজনা

 

ঢাকার পিলখানায় ‘বিডিআর’ হত্যাযজ্ঞে মেধাবী ৫৭ সেনা কর্মকর্তাকে খুন করার পর বর্তমান বিজিবিতে কর্মরত সেনা কর্মকর্তাদের একটি বড় দল দিল্লী সফরে যাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে টানটান উত্তেজনা পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ ট্যাগ লাগিয়ে গুজরাট থেকে শতশত ভারতীয়দের ধরে বিমানে করে পশ্চিমবঙ্গে জড়ো করা হয়েছে বলে প্রকাশ। ভারতীয় বিএসএফ তাদেরকে জোর করে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত দিয়ে ১৪ জনকে জোর করে বাংলাদেশের ভেতরে পুশইন করার খবর ফলাও করে প্রচার হয়েছে। এর আগে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পুুশইন করার চেষ্টা চালানোর সময় বিএসএফকে প্রতিহত করা হয়। ভারতীয় পুশইন আতঙ্ক বেনাপোল, খুলনা, সিলেটসহ ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ বর্ডার এলাকায় বিরাজ করছে। রাতে বাংলাদেশিরা ঘুমাতে পারেন না। রাত জেগে বিজিবির সদস্যদের সাথে সীমান্ত প্রহরায় থাকতে হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশ নিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েই যাচ্ছে।
এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিজিবিতে কর্মরত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরাট একটি দল আগামী ৮ জুন থেকে ১১ জুন ৪ দিনের দিল্লীর কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত রয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জমান সিদ্দিকীসহ বিজিবিতে কর্মরত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা দিল্লীতে যাচ্ছেন। ভারতের প্রভাবশালী মিডিয়া ‘দি হিন্দু’, ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তাদের দিল্লীতে যাবার খবরটি প্রচার করেছে। তাদের নাম ও পদবি ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ভারতীয় সংশ্লিষ্টতায় বাংলাদেশে ‘বিডিআর হত্যাযজ্ঞে’ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পর এবার বিজিবিতে (সাবেক বিডিআর) কর্মরত সেনা কর্মকর্তারা দিল্লী যাচ্ছেন আগামী ৭ জুন,  সোমবার। বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকটা পরিকল্পিতভাবেই ভারত কর্তৃক বাংলাদেশ সীমান্তে অস্থিরতা তৈরী করার অভিযোগ উঠেছে।
বিজিবির প্রধান মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান ছাড়াও দিল্লী গমনকারী দলে রয়েছেন, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহরাব হোসাইন ভূইয়া, রংপুরে রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার এএসএম নাসের, বিজিবির পরিচালক স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ হোসেন, কামিলার সেক্টর কমান্ডার উপ-মহাপরিচালক কর্নেল রকীবুল হাসান, বিজিবির পরিচালক স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ পারভেজ রানা, বিজিবির উপ-পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. রফিকের সালহিন। এছাড়াও কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ আহমেদ, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (সীমান্ত) রেবেকা খান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক শফিউল আজম সিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক তালুকদার মোহাম্মদ মাহমুদ রেজা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া-১) মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ এবং বাংলাদেশের যুগ্ম নদী কমিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী শহীদুর রহমান।
ভারতীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) মধ্যে ৫৭ তম ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি)-স্তরের বর্ডার কো-অর্ডিনেশন কনফারেন্স ৮ থেকে ১১ ই জুন দিল্লীর সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হবে।
ভারত পুরো বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়েই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। যার কিছু অংশ দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে অবরুদ্ধ রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদী অঞ্চল এবং সুন্দরবনের মতো ভৌগলিক সীমাবদ্ধতার কারণে বেড়া দেওয়ার জন্য অসম্ভব বলে বিবেচিত অঞ্চলগুলিসহ ৮৬০ কিলোমিটারেরও বেশি অংশ বর্তমানে বেড়া ছাড়াই রয়েছে। জানা গেছে, সীমান্ত জুড়ে এআই চালিত নজরদারি গ্রিড অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিএসএফ। 
নজরদারি ও আকাশসীমা সুরক্ষার জন্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ড্রোনগুলির সাম্প্রতিক ঘন ঘন ব্যবহার উদ্বেগের কিছু বিষয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) শীর্ষ পরিচালনা পরিষদ বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে উত্থাপন করবে বলে জানা যায়।