খলিল বিরিয়ানির শেষ নোঙ্গরও বিদায়!
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৪৮ এএম, ৬ জুন ২০২৬ শনিবার
২০১৭ সালে নিজের নামে খলিল বিরিয়ানী রেস্টুরেন্ট চালু করেন শেফ খলিলুর রহমান, যা অল্প দিনের মধ্যেই কমিউনিটির মানুষের আস্থার নাম হয়ে উঠে। ২০২২ সালে কারি এওয়ার্ড লাভের পর ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে উঠে খলিল বিরিয়ানি। হাতে উঠে আরো এক হালি পদক। ধীরে ধীরে গড়ে উঠে খলিল ফুড কোর্ট, খলিল চাইনিজ, খলিল বিরিয়ানি জ্যামাইকা শাখা ও খলিল বিরিয়ানি জ্যাকসন হাইটস শাখা। স্বপ্ন ছিল নিউইয়র্কের গন্ডি পেরিয়ে অন্যান্য স্টেটেও খলিল বিরিয়ানি’র ফ্রাঞ্চাইজ খুলবে। তবে চার বছরের মধ্যেই উত্থান থেকে পতন দেখতে হয়। ব্রঙ্কসের তিন স্টোর ও জ্যামাইকার পর এবার খলিলেল শেষ নোঙ্গর জ্যাকসন হাইটসের খলিল বিরিয়ানিও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে শেফ খলিলুর রহমান আজকালকে বলেন, রেস্টুরেন্ট ব্যবসা বেশি একটা ভালো চলছে না। রেস্টুরেন্ট বিক্রির জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। ভালো দাম পেলে বিক্রি করা হবে। তবে, সবকিছু রিএরেঞ্জ করে নতুনভাবে আবার রেস্টুরেন্ট ব্যববা শুরু করব।
জ্যাকসন হাইটসের খলিল বিরিয়ানি বিক্রির বিজ্ঞাপন পত্রিকায় এবং অনলাইনে দেওয়া হয়েছে। প্রথামিক ভাবে দাম চাওয়া ধরা হচ্ছে আনুমানিক সাড়ে চার থেেেক ৫ লাখ ডলার। ভবন কর্তপক্ষের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি আছে। এছাড়া সম্প্রতি রেস্টুরেন্টটির কিচেন নবায়ন করা হয়েছে।
২০১৭ সালে ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারে মাত্র ৫ জন কর্মচারি নিয়ে খলিল বিরিয়ানীর শুরু হয়। সময়ের সাথে সাথে ব্রঙ্কসের স্থানীয় বাংলাদেশিসহ এশিয় কমিউনিটির কাছে পরিচিতি লাভ করে খলিলের বিরিয়ানি। এমনকি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মানুষজনকে বিরিয়ানি কিনতে হয়েছে। জনপ্রিয়তার হাত ধরে একই জায়গায় গড়ে উঠে খলিল ফুড কোর্ট, খলিল চাইনিজ ও খলিল পিজা। নিইইয়র্কে বাংলাদশে বিরিয়ানি বলতে সবার মুখেই ছিল খলিলের নাম।
পাঁচ বছরের মাথায় ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ড হাতে উঠে শেফ খলিলুর রহমানের। পান প্রেসিডেন্ট এওয়ার্ড। একই বছর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন খলিল ফাউন্ডেশন। এর হাত ধরে কমিউনিটিতে আরো পরিচিতি লাভ করেন তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেন খলিল, হাত খুলে দিতেন অনুদান। অসংখ্য গুণগ্রাহি জোটে চার পাশে। ফেসবুকে তার বিরিয়ানী প্রসংশায় ছিল সয়লাব। ব্যবসাও তত দিনে ব্রঙ্কসের বাইরে জ্যামাইকা ও জ্যাকসন হাইটসে যাত্রা করে। এ সময় শতাধিক কর্মীর বহর ছিল খলিলের প্রতিষ্ঠানে। ঢাকায় মশলার কারখানা ও কুলিনারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন।
কমিউনিটিতে আলোচনা আছে, বিভিন্ন দিকে বিচরণের কারণে মূল ব্যবসায় রেস্টুরেন্টের দিকে মনোযোগ দিতে পারেননি তিনি। ব্যবসায় ভাটা পড়ে। এতে আস্তে আস্তে সব প্রতিষ্ঠানের দায় বাড়তে থাকে। বিনিয়োগকারীরাও সরে যেতে থাকেন। ব্যবসাও হাতছাড়া হতে থাকে।
শুধু নিজে এওয়ার্ড পেলেই হবে না। অন্যদের উৎসাহ দিতে ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ডের আদলে আমেরিকান কারি এওয়ার্ডও চালুর সূচনা করেন তিনি।
অপর দিকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে লাগোর্ডিয়া মেরিয়ট হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে খলিল বিরিয়ানি হাউসের ফ্রাঞ্চাইজের এর উদ্বোধন করা হয়। নিউইয়র্কের গন্ডি ছেড়ে বিভিন্ন স্টেটে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় আরো শাখা খোলার প্রস্তুতি চলছিল। একই বছরের শুরুতে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে চালু হয় খলিল বিরিয়ানি।
তবে এর পরই আসে শেষের শুরু। ব্রঙ্কসের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথমে খলিল ফুড কোর্ট ও খলিল চাইনিজ বিক্রি করে দেন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে পার্টনারশিপ দ্বন্ধে হাত ছাড়া হয় জ্যামাইকার খলিল বিরিয়ানি। এরপর দায় বেড়ে যাওয়ায় ব্রঙ্কসের সবশেষ চিহ্ন খলিল বিরিয়ানিও বিক্রি হয় ২০২৫ সালের শেষ দিকে। এবার খলিল বিরিয়ানির শেষ সাইন বোর্ড জ্যাকসন হাইটসের শাখাও বিক্রির জোর প্রস্তুতি চলছে।
নতুন করে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু আগে শেফ খলিলুরকে দেখা যাবে হোলসেল সাপ্লাই ব্যবসাতে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে সুগন্ধি চাল, মসলা থেকে শুরু করে নিত্য পণ্য আমদানি করে পাইকারীতে সরবরাহ দেয়ার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। শুরু হয়েছে বাজারজাত করণ।
নতুন শুরু নিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, নতুন করে হোল সেল ব্যবসায় নজর দিচ্ছি। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থেকে বিশ্বখ্যাত সুগন্ধি চালসহ নানা পণ্য আমেরিকার আমদানি ও বাজারজাত শুরু করেছি।
