তারেক রহমানের নিরাপত্তায় গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত!
আজকাল রিপোর্ট
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৩২ এএম, ৬ জুন ২০২৬ শনিবার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা তার প্রাণনাশের হুমকি বলে বিবেচ্য হতে পারে। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর সেলিম উদ্দিনের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার কেটে নেবার মতো ঘটনা কিসের আলামত -- এমন প্রশ্নে তোলপাড় হচ্ছে সোস্যাল মিডিয়ায়। সেলিম উদ্দিন মন্তব্য করেন যে, ‘তারেক রহমানের যে কোনও সময় মরা লাগতে পারে। তাই জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানের মতো সাহসী প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় আছি আমরা’। তার এই মন্তব্যে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরম। সেলিম উদ্দিন আসলে কী বোঝাতে চাইছেন ? কেউ হয়তো মনে করতে পারেন যে, সেলিম উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যুর কথাই বলতে চাইছেন। কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যু হলে জামায়াতের ক্ষমতায় যাবার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের সংবিধান এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হলে প্রধানমন্ত্রীর পদ কে পাবেন বা কোনও জামায়াত নেতা নেতৃত্ব দিতে পারবেন কি-না তার একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কেবল জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনপুষ্ট ব্যক্তিই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হলে তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে যায়। রাষ্ট্রপতি তখন সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মধ্য থেকে একজনকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেন। বর্তমান আইনি ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াত নেতা হিসাবে সরাসরি দেশের নেতৃত্ব বা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়।
আয়ুর বিবেচনায় শফিকুর রহমান তারেক রহমানের থেকে ১০ বছরের বড়। যে কোনও মানুষের যে কোনও সময়ে মৃত্যু আসতে পারে। কিন্তু সাধারণ হিসাবে মানুষ ধারণা করে বয়স্কদের মৃত্যু আগে হয়। ফলে জামায়াত নেতার এই ধরনের বক্তব্য স্বাভাবিক মৃত্যুর দিকে ইঙ্গিত করে করা হয়নি। জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছেন দেশী-বিদেশী শত্রুদের নিশানায়।
এদিকে, বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরী করেছে। ৪ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম এবং ট্রান্সন্যাশনালস ক্রাইম ইউনিট সংবাদ সম্মেলন করে এই চুরির রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের খবর নিশ্চিত করেছে।
মে মাসের শেষের দিকে সরকারি ছুটির পর ১ জুন সোমবার সচিবালয় খোলার পর কর্মকর্তারা দেখতে পায়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল লাল টেলিফোনগুলো অচল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানী লিমিটেডের (বিটিসিএল) কারিগরি দল প্রায় সাত ঘন্টা টানা চেষ্টা চালিয়ে ওইদিন বিকেলে সংযোগটি পুনরায় সচল করে। তদন্তে দেখা যায়, সচিবালয়ের পুরনো ভবনের ছাদে কপার ক্যাবল তথা তামার তার কেটে নিয়ে গেছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এবং সুরক্ষিত স্থানে এ ধরনের চুরির ঘটনা কেবল একটি সাধানরণ ঘটনা নয়। এসব ঘটনা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকির সৃষ্টি করে।
