৬ নবজাতকের মৃত্যু
আদ-দ্বীন হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:৫৬ এএম, ১ জুন ২০২৬ সোমবার
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ মিটার (টেম্পারেচার মনিটরিং সিস্টেম) না থাকা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
অভিযান পরিচালনাকালে হাসপাতালের ক্যান্টিনে রক্ষিত ফ্রিজে জমাটবদ্ধ অবস্থায় লেবেলবিহীন মিষ্টি, ক্যান্টিনে অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘর, বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা না থাকা, হাসপাতালের রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা পরিমাপক না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে অভিযোগ গঠন করা হয়।
এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ১ লাখ টাকা এবং নিরাপদ খাদ্য আইনে ২ লাখ টাকাসহ মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়।
উক্ত হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ, আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা, রেফ্রিজারেটরে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন, ক্যান্টিনের পরিবেশ উন্নতকরণ, বেকারি স্থানান্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ে সতর্কতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়।
এর আগে, গত মঙ্গলবার রাতে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এসব মৃত্যুর ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বুধবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এছাড়া, এক নবজাতকের পরিবারের পক্ষ থেকে অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে রমনা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
গত শনিবার বিকেলে আদ-দ্বীন হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এ সময় হাসপাতাল ভবনের ছাদে একটি বেকারি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বেকারিটি হাসপাতালের ভেতরে নয়, বরং পাশে অবস্থিত। তবে এই কারখানা থেকে রোগীর খাবার সরবরাহ করা হয়।
এদিন আদ-দ্বীন ছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত মনোয়ারা হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হয়।
এ সময় আদালতকে সহায়তা করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডাঃ মো. মাহমুদুর রহমান, ডিএসসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ফারিয়া ফয়েজ এবং নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোঃ আসলাম ভুইয়াসহ রমনা থানা পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। জনস্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এই যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।
