কোহলির হাত ধরে ফের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:৪৩ এএম, ১ জুন ২০২৬ সোমবার
প্রথম শিরোপার জন্য বিরাট কোহলি ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের। গত মৌসুমে সেই আক্ষেপ ঘুচেছিল। আর এবার টানা দ্বিতীয় শিরোপা নিজেদের করে নিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রোববারের ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএল ট্রফি ঘরে তুলেছে বেঙ্গালুরু। রান তাড়া করতে নেমে ব্যাট হাতে জাদুকরী এক ইনিংস খেলে বেঙ্গালুরুকে চ্যাম্পিয়ন করে মাঠ ছাড়েন বিরাট কোহলি।
লো-স্কোরিং ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বেঙ্গালুরুর বোলিং তোপে ১৫৫ রানের বেশি করতে পারেনি গুজরাট টাইটান্স। জবাবে ১২ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রজত পতিদারের দল। আইপিএলের ১৯ বছরের ইতিহাসে এটি বেঙ্গালুরুর দ্বিতীয় শিরোপা।
এর মাধ্যমে চেন্নাই সুপার কিংস (২০১০ ও ২০১১) এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (২০১৯ ও ২০২০) পর টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল বেঙ্গালুরু। অন্যদিকে মাত্র ৫ বছর বয়সী ফ্রাঞ্চাইজি গুজরাট তিনবার ফাইনালে উঠে দ্বিতীয়বারের মতো রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে মাঠ ছাড়ল।
এদিন টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক রজত পাতিদার। প্রথম কোয়ালিফায়ারে জয়ী একাদশ নিয়েই ফাইনালের মঞ্চে নামে তারা। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বেঙ্গালুরুর আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের সামনে চাপে পড়ে যায় গুজরাট। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে দলকে ফাইনালে তোলা অধিনায়ক গিল এদিন থমকে যান মাত্র ১০ রানে। তার ওপেনিং সঙ্গী সাই সুদর্শনও ১২ রানের বেশি করতে পারেননি। মিডল-অর্ডারে নিশান্ত সিন্ধু ২০ এবং দলের অন্যতম ভরসা জস বাটলার ফেরেন ১৯ রান করে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান তোলে গুজরাট টাইটান্স।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে নিয়ে বেঙ্গালুরুকে বিধ্বংসী সূচনা এনে দেন বিরাট কোহলি। মোহাম্মদ সিরাজ ও কাগিসো রাবাদার ওপর তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ৩.৩ ওভারেই দলের স্কোরবোর্ডে ৫০ রান যোগ করেন এই দুই ওপেনার। পঞ্চম ওভারে ১৬ বলে ৩২ রান করা আইয়ারকে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন সিরাজ।
এরপর দ্রুতই বিদায় নেন দেবদূত পাডিক্কাল। অধিনায়ক রজত পতিদার ক্রিজে এসে কিছুক্ষণ কোহলিকে সঙ্গ দিলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। একই ওভারে পতিদার ও ক্রুনাল পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে গুজরাটকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন আফগান স্পিনার রশিদ খান।
তবে অন্য প্রান্তে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১১০তম ও চলতি আইপিএলের ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন ৩৭ বছর বয়সী কোহলি। মাত্র ২৫ বলে করা এই ফিফটিটি আইপিএল ইতিহাসে কোহলির নিজের দ্রুততম এবং আইপিএল ফাইনালের ইতিহাসে যেকোনো ব্যাটারের দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড।
এরমধ্যেই টিম ডেভিড ১৭ বলে ২৪ রান করে আরশাদ খানের শিকার হন। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে যান কোহলি। পরে আরশাদ খানের বলে কোহলিও মিড অফে প্রায় ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। তবে শুভমান গিল বল ধরার পর কিছু অংশ মাটিতে লেগে যাওয়ায় বেঁচে যান কোহলি। এরপর গুজরাটকে আর কোনো সুযোগ না দিয়ে ১৮তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা মেরে বেঙ্গালুরুর ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপা নিশ্চিত করেন কোহলি। ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪২ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
গুজরাটের হয়ে ৩ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন রাবাদা। তবে পুরো আসরে ২৯ উইকেট নিয়ে এই আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির (পার্পল ক্যাপ) পুরস্কার নিজের করে নেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার।
