রোববার   ৩১ মে ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩   ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু শক্তি নিয়ে চার দেশের আপত্তিতে ক্ষুব্ধ কিম!

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:১৫ এএম, ৩১ মে ২০২৬ রোববার

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত চার দেশের জোট 'কোয়াড'র উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে অঙ্গীকারের খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। দেশটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কখনই পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করবে না উত্তর কোরিয়া। 

সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড জোটের বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে চার দেশ। জবাবে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ কখনই ঘটবে না। কোয়াডের সমালোচনা করে ওই মুখপাত্র আরও বলেন, কোয়াড হলো একমেরু আধিপত্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল বাস্তবায়নে ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কোয়াডের বৈরী মনোভাবকে দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানায় তারা। এছাড়া আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ণ করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য চার দেশের জোটটিকে আহ্বান জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

বিবৃতিতে দেশটির কর্মকর্তা বলেন, কোয়াডের সহযোগিতা জোরদার করার এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো জাপানের পুনঃঅস্ত্রসজ্জার পদক্ষেপ এবং অস্ট্রেলিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন থাকার বিষয়টিকে ন্যায্যতা দেওয়া। এছাড়া বিবৃতিতে জানানো হয়, উত্তর কোরিয়া তার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করে যাবে এবং এই অঞ্চলে যাকে তারা একচেটিয়া জোট ও জোটগত সংঘাত বলে অভিহিত করেছে, সেটির বিরোধিতা করে যাবে দেশটি।

দক্ষিণ কোরিয়ার একজন কর্মকর্তা পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোয়াডকে ন্যাটোর একটি সম্ভাব্য এশীয় সংস্করণের ভিত্তি হিসেবে দেখে আসছে উত্তর কোরিয়া এবং বারবার এই গোষ্ঠীর সমালোচনা করেছে। সিউলের মতে, মূলত জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে লক্ষ্য করে উত্তর কোরিয়ার এবারের প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে, যা একইসঙ্গে তাদের সমর্থনের পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয় চীনের অবস্থানের প্রতিও।

এদিকে, গত মঙ্গলবার (২৬ মে) উত্তর কোরিয়া প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি নির্ভর ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ।

এক প্রতিবেদনে কেসিএনএ জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের তত্ত্বাবধানে এই প্রথমবার ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি রকেট এবং এআই পরিচালিত প্রিসিশন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে কিম জানিয়েছেন, এআই পরিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, ‘স্পেশাল মিশন ওয়ারহেড’ প্রকল্পের আওতায় তৈরি এসব ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা যাচাই করতেই পরিচালনা করা হয়েছে এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ।

উত্তর কোরিয়া দীর্ঘপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতার অভাবনীয় উন্নতির পর এবার নিজেদের কৌশলগত ও প্রচলিত অস্ত্রাগারকে আরো আধুনিকীকরণে মনোযোগ দিয়েছে। এছাড়া পিয়ংইয়ং নিজেদের এসব আধুনিক অস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি মোতায়েনের ঘোষণাও দিয়েছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, রয়টার্স, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনাদোলু