যে কারণে সরকারি চাকরি ছাড়লেন শীর্ষ কর্মকর্তা
নিউজ ডেস্ক
আমাদের নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৪:৪২ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার
কাশ্মীরিদের হত্যা ও হিন্দুত্ববাদীদের হাতে মুসলিমদের কোণঠাসা হওয়ার প্রতিবাদে সিভিল সার্ভিস থেকে ইস্তফা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের কাশ্মীর থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় শীর্ষস্থান পাওয়া যুবক শাহ ফয়সাল।
কাশ্মীরিদের জীবনের মূল্য আছে— এক টুইটবার্তায় এ কথা লিখে চাকরিতে ইস্তফা দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি নিয়ে পড়া অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একাধিক পোস্ট দেন তিনি। তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় জম্মু-কাশ্মীর সরকার।
ভারতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় শীর্ষস্থান (আইএএস) দখল করে ভূস্বর্গের তরুণ প্রজন্মের আইকন হয়ে ওঠেন শাহ ফয়সাল। তবে সরকারি আমলা হিসেবে তার চাকরি ছাড়ার ঘোষণা ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ২০১০ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে আইএএস পরীক্ষায় দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন ফয়সাল। চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নতুন ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন রাজনীতিতে। ধর্ষণ নিয়ে সরব হয়েছিলেন দেশের এ আইএএস টপার।
২০১৮ সালের জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের একের পর এক ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছিলেন সরকারি এ আমলা। সরকারবিরোধী তার এসব কথাবার্তা ভালোভাবে নেয়নি সরকার।
তার বিরুদ্ধে সার্ভিস রুল ভাঙার অভিযোগ আনা হয়। ফয়সালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। এর পরই চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এর আগে দেশে ধর্ষণের একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফয়সাল টুইটারে লেখেন- জনসংখ্যা, পিতৃতন্ত্র, অশিক্ষা, মদ, পর্নোগ্রাফি, প্রযুক্তি ও অরাজকতার ফলে দেশ রেপিস্তান হয়ে গেছে।
ফয়সাল আরেক পোস্টে লেখেন- ‘কাশ্মীরিদের হত্যা থামাতে সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার ওপরেও আঘাত হানার চেষ্টা হচ্ছে।
হিন্দুত্ববাদীদের চাপে দেশের ২০ কোটি মুসলিম কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়েছে। এর প্রতিবাদে সিভিল সার্ভিস থেকে ইস্তফা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
