প্রধানমন্ত্রীর এসিড টেস্ট ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন’
আজকাল প্রতিবেদক, ঢাকা থেকে
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৭:৫৬ পিএম, ২২ মে ২০২৬ শুক্রবার
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সামনে প্রথম এসিড টেস্ট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থেকে কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারে তার পরীক্ষা হবে এই বছরেই। সরকারের তরফে বলা হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবর মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত হবে এই ভোটযুদ্ধ। সরকার ইতিমধ্যেই সিটি করর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনও দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলো এরিমধ্যে ভোটের প্র¯‘তি শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, সুষ্ঠু নির্বাচন করাটা বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। এই নিয়ে প্রস্তুতি চলছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন- সব নির্বাচনই হবে উন্মুক্তভাবে। অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে ‘দলীয় প্রতীক’ নিয়ে কেউ নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। এ সংক্রান্ত আইনও পাস হয়েছে। সে লক্ষ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও চিন্তা রয়েছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটির।
দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হলেও প্রার্থীরা দলের সমর্থন ও প্রভাবের বলয় থেকে মুক্ত হতে পারবেন না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রার্থীদের প্রতি দলের সমর্থন বা পক্ষাবলম্বন হলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও পক্ষপাতহীন হওয়া নিয়ে আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ক্ষমতাসীন সরকারি দল বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষাবলম্বন বা সমর্থনের কথা সরাসরি না বললেও এনসিপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রার্থীর প্রতি সমর্থনের কথা স্বীকার করা হয়েছে। এনসিপি দুই ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দুই স্তরের প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছে। তবে জামায়াত সরাসরি কারও নাম ঘোষণা করেনি।
নির্বাচন আরও কিছু দিন দূরে থাকলেও স্থানীয়ভাবে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী আগাম প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় সমর্থন আশা করে অনেক জায়গায় প্রচারণার ব্যানার-ফেস্টুনও টানাতে দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রচারণার ব্যানারে নিজ দলীয় নেতা, এমপি বা মন্ত্রীর ছবি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আবার কেউ কোনো দলের পক্ষ না হয়েও স্বতন্ত্রভাবে প্রচারণার মাঠে রয়েছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা বলা হচ্ছে। গেল মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করবে সরকার। আগামী এক বছরের মধ্যে মোট পাঁচটি ¯’ানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনার কথা সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। তবে বাজেট পাওয়ার ওপর ভিত্তি করে কোন স্তরের নির্বাচনটি আগে অনুষ্ঠিত হবে, তা ঠিক করা হবে। সবচেয়ে বেশি বাজেট প্রয়োজন হয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। সে বিচেবনায় প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে শুরু হতে পারে কার্যক্রম। এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ এবং সবশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ধাপে ধাপে করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ ঘোষিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও এর সাথেই হয়ে যাবে বলেও সে কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশের তৃণমূলের এই নির্বাচনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। যেসব দলের ভিত্তি শক্তিশালী তারাই কেবল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জায়গা করে নিতে পারে। সেই দিক বিবেচনায় বিএনপি সবচেয়ে ভাল অবস্থানে আছে। দ্বিতীয় অবস্থান অবশ্যই জামায়াতে ইসলামীর। এনসিপি’র ভিত্তি এখনও সেভাবে সৃষ্টি হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত চব্বিশের অভ্যূত্থানে নেতৃত্ব দানকারী দলটি যদি জামায়াতের সঙ্গে কোয়ালিশনে যায় তবে এতে কোনও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় স্থানীয় নির্বাচনেও অংশ নিতে পারবে না বলে মনে হচ্ছে। দলটির নেতা-কর্মীরা আসন্ন নির্বাচনে যাকেই ভোট দেবে তাদেরই বিজয়ী হবার সম্ভাবনা বেশি। কারণ স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ভিত্তি মজবুত। যদিও দলীয় মনোনয়ন কিংবা পার্টির কর্মকান্ডের প্রয়োজন ছাড়াই আওয়ামী লীগের কেউ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতে পারে। কারণ এমনিতেই নিষিদ্ধ দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা রয়েছে। বিএনপি কি প্রার্থীতা উন্মুক্ত রাখবে নাকি মনোনয়ন ঘোষণা করবে সেটাও এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
