বৃহস্পতিবার   ২১ মে ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪৩৩   ০৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

এশিয়ার বাজারে ঢুকছে ৬০ লাখ ব্যারেল তেল

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৫:৩৮ পিএম, ২১ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার

এশিয়ার বাজারে ঢুকছে ৬০ লাখ ব্যারেল তেল। ইতোমধ্যে এসব তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে। তিনটি সুপার ট্যাংকারে এসব তেল পরিবহন করা হচ্ছে। এছাড়া আরও একটি ট্যাংকার প্রণালিতে প্রবেশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) এলএসইজি ও কেপিলারের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্যের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জাহাজগুলো চলতি মাসে উপসাগর ত্যাগ করা অল্প কয়েকটি সুপার ট্যাংকারের মধ্যে রয়েছে। এসব ট্যাংকার ইরান নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে চলাচল করছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার ‘ইউনিভার্সাল উইনার’ গত ৪ মার্চ কুয়েত থেকে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বোঝাই করেছিল। বুধবার দুটি চীনা ট্যাংকারের পর এটিও প্রণালি ছেড়ে বেরিয়ে গেছে।

কেপিলার জানিয়েছে, জাহাজটি দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান শহরের দিকে যাচ্ছে। এ অঞ্চলে দেশটির বৃহত্তম তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এসকে এনার্জি’ অবস্থিত। আগামী ৯ জুন সেখানে তেল খালাস করার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসকে এনার্জি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এছাড়া ট্যাংকারটির মালিক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এইচএমএমের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। বর্তমানে শত শত জাহাজে থাকা প্রায় ২০ হাজার নাবিক এখনও উপসাগরের ভেতরে আটকে আছেন। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি জাহাজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করছে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্যবাহী জাহাজ, রাসায়নিকবাহী ট্যাংকার ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী জাহাজ। অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারের সংখ্যা এখনও মোট চলাচলের তুলনায় খুবই কম।

কেপিলার ও তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিনম্যাক্সের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১০টি জাহাজ প্রণালি পার হয়েছে। এর মধ্যে ছোট পণ্যবাহী জাহাজ ও একটি রাসায়নিকবাহী ট্যাংকারও রয়েছে।

বুধবার আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পসংক্রান্ত সংগঠনগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে হামলার ঝুঁকি, ড্রোন ও মাইনের হুমকি, অনিয়ন্ত্রিত যানজট এবং কমে যাওয়া সামরিক তদারকিসহ বিভিন্ন নৌ-ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, শত শত জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এত বিপুলসংখ্যক জাহাজ একসঙ্গে চলাচল শুরু করলে তা বড় ধরনের নৌ-ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চীনের পতাকাবাহী ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার ‘ইয়ুন গুই ইয়াং’ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরাকের বাসরা অঞ্চল থেকে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বোঝাই করেছিল। বুধবার এটি প্রণালি ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। আগামী ৪ জুন চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশের মাওমিং শহরের কাছে শুইদং বন্দরে পৌঁছে তেল খালাস করার কথা রয়েছে।

এছাড়া হংকংয়ের পতাকাবাহী ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার ‘ওশান লিলি’ ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে মার্চের শুরু পর্যন্ত কাতারের আল-শাহিন ও ইরাকের বাসরা অঞ্চল থেকে মোট ২০ লাখ ব্যারেল তেল বোঝাই করেছিল। জাহাজটির আগামী ৫ জুন চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের চুয়ানঝো বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।