যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনা
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৩৫ এএম, ১৮ মে ২০২৬ সোমবার
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন খবর সামনে আসার পর তেহরান সম্ভাব্য হামলার পরিণতি সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে নৌপথে হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নতুন হামলার প্রস্তুতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। এতে বলা হয়, সামরিক পরিকল্পনার মধ্যে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে সম্ভাব্য হামলার বিষয়টিও আছে। অন্যদিকে ট্রাম্প শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বানানো একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি নৌবাহিনীর একজন অ্যাডমিরালের সঙ্গে জাহাজে দাঁড়িয়ে আঙুল দিয়ে কিছু নির্দেশ করছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ঝড়ের আগে শান্ত পরিস্থিতি’।
নিউইয়র্ক টাইমস ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য একটি যুদ্ধে জড়ানোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেলআবিব তাদের ইতিহাসের অন্যতম নিবিড় প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই সম্ভাব্য অভিযানকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০’ বলে অভিহিত করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক পরিকল্পনাকারীরা বেশ কিছু বিকল্প খতিয়ে দেখছেন। এর মধ্যে আছে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো, ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং খার্গ দ্বীপে আকস্মিক হামলা চালানো।
টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনার একটি অন্যতম অংশ হলো- ইরানের ভেতরে কমান্ডো বাহিনী পাঠানো। এর উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর নিচে লুকিয়ে রাখা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার বা জব্দ করা। তবে সামরিক কর্মকর্তারা টাইমসকে জানিয়েছেন, এই অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। কারণ, ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ইরানের স্থলবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ মোকাবিলায় কয়েক হাজার সহায়তাকারী সেনা দরকার।
পাল্টা প্রতিরোধ
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার জেরে পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গ্যাস স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহকারী মনিটরিং সিস্টেম লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এই হামলার পেছনে ইরানের হাত থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যাকাররা জ্বালানির পরিমাণ প্রদর্শনকারী ডিসপ্লে সিস্টেমগুলোর তথ্য বিবৃত করেছিল। তবে কাঠামোগত তেমন ক্ষতি হয়নি।
নতুন হামলার প্রস্তুতির খবর সামনে আসার পর রোববার জবাব দিয়েছে ইরান। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুলফজল শেকারচি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আবুলফজল বলেন, হতাশাগ্রস্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি বিষয় অবশ্যই জানা উচিত। তাঁর এই হুমকিগুলো যদি বাস্তবায়ন করা হয় কিংবা ইরানে ফের অভিযান চালানো হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নজিরবিহীন ও মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়া, অঞ্চলজুড়ে সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধজাহাজের নতুন করে অবস্থান নেওয়া এবং উভয়পক্ষের আক্রমণাত্মক বক্তব্যের কারণে পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে- চলতি যুদ্ধবিরতি বা থমথমে পরিস্থিতি সাময়িক, এটি হয়তো আরেকটি বড় ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা।
