‘হিন্দুদের সাথে বৈষম্যের করছেন শেখ হাসিনা’
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:১২ এএম, ১৬ মে ২০২৬ শনিবার
ইউনাইটেড হিন্দুজ ইন ইউএসএ’র দাবি
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারিকে প্রাণঢালা অভিনন্দন এবং বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শীঘ্রই সাক্ষাতের অভিপ্রায় প্রকাশ করা হয়েছে ১২ মে সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে ‘ইউনাইটেড হিন্দুজ ইন ইউএসএ’র সাধারণ সভায়। জ্যাকসন হাইটসে সানাই পার্টি হলের এ সভা থেকে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করে সংগঠনের চেয়ারম্যান ডা. প্রভাত দাস আরো বলেন, সারাবিশ্বে বরেণ্য হলেও গত ১৮ মাস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে যে ধরনের কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলেন, তার বিচার দাবি করতে বাধ্য হচ্ছি। ৫৮ জন তরুণ হিন্দুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত কারো বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেননি। কত-শত মন্দির হামলার শিকার হয়েছে, হিন্দু তরুণীসহ বধূরা ধর্ষিত হয়েছেন, কোনো ধরনের বিচারিক উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ডা. প্রভাত দাস বলেন, বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও হিন্দুদের নিরাপত্তায় আন্তরিক কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। তাই আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা চালাচ্ছি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাত করে উদ্ভূত পরিস্থিতির অবসানের দাবি জানাতে।
‘ইউনাইটেড হিন্দুজ ইন ইউএসএ’র প্রেসিডেন্ট ভজন সরকারের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রামদাস ঘরামি ও যুগ্ম সম্পাদক নিতাই পাল। কমিউনিটি লিডার ড. সবিতা দাসের পবিত্র গীতা থেকে পাঠের পর আলোচনায় অংশগ্রহণকারি নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন ইউনাইটেড হিন্দুজের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান নৃত্যানন্দ কিশোর দাস, সুশীল সিনহা, সমীর সরকার, ইন্দজিৎ সরকার, শ্যামল ভৌমিক, পল্লব সরকার, অজিৎ ভৌমিক, অজয় ঘোষ, দ্বিপঙকর দেব, পরিতোষ পাল, মিন্টু কর, জয়দেব গহীন, তাপস সাহা প্রমুখ ।
নৃত্যানন্দ কিশোর দাস বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণদাসকে নিঃশর্ত মুক্তি দূরের কথা জামিনেও বিরোধিতা করা হচ্ছে মৌলবাদি জামায়াতে ইসলামকে খুশী রাখতে। এভাবে বৈষম্যহীন সমাজের উল্টোপথে হাঁটছেন তারেক রহমানও। এ অবস্থার অবসানে এই প্রবাস থেকে দুর্বার আন্দোলনের বিকল্প নেই বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।
এ সময় বক্তারা পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নেত্রী মমতাজসহ পুরো দলের ভরাডুবির বিশ্লেষণকালে মন্তব্য করেন যে, ইউনূসের আমলে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নৃশংস হামলা, বর্বরতা, পিটিয়ে হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে ফেলার পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা কোনো প্রতিবাদ করেননি। অপরদিকে, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারি সবসময় সরব ছিলেন। তার প্রভাব পড়েছে গত নির্বাচনে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে ডা. প্রভাত দাস উল্লেখ করেন, তার আমলেও হিন্দুরা নিরাপদ ছিলেন না। ২০২১ সালে মন্দিরে হামলা এবং ৮ জন হিন্দুকে হত্যার ঘটনার পর বলেছিলাম যে, আপনি বিচার করেননি, আপনাকে এর প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। এখোন তিনি তার পরিণতি ভোগ করছেন।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা চেয়ে নিউইয়র্কে তাকে স্মারকলিপি দেয়ার সময় শেখ হাসিনা মন্তব্য করেছিলেন যে, বাংলাদেশের হিন্দুদের এক পা ভারতে আরেক পা বাংলাদেশে। শেখ হাসিনাও ভারতের সমালোচনা করতে দ্বিধা করেননি। অথচ কাকতালীয়ভাবে সেই হিন্দুদের আশ্রয়েই বেঁচে আছেন। ভারতই চরম দুঃসময়ে পচাত্তর পরবর্তী সময়ে এবং ২০২৪ সালের আগস্টের হিংস্রতার সময়েও হিন্দুদের সেই ভারতই শেখ হাসিনাকে বুকে আগলে রেখেছে।
ডা. প্রভাত দাস এনসিপির ভারত বিরোধিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টে গণভবনে লুটপাটে লিপ্ত ছিল সোস্যাল মিডিয়ার পরিচিত এক নারী , তাকেও এখন চিকিৎসা দিচ্ছে ভারত। অর্থাৎ ভারত আর হিন্দুরা হলেন উদার, মানবিকতায় কার্পণ্য করে না।
