শনিবার   ০৯ মে ২০২৬   বৈশাখ ২৫ ১৪৩৩   ২২ জ্বিলকদ ১৪৪৭

মমতা ব্যানার্জি এখন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী

আজকাল ডেস্ক

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৫:৩৯ এএম, ৯ মে ২০২৬ শনিবার


 

ভোটে পরাজয়ের পরও ইস্তফা দিতে চাননি মমতা ব্যানার্জি। নানা জল্পনা কল্পনা চলছিল। সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন সরকার ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঠিক মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পদত্যাগ করতে রাজি হননি। এদিকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী ৯ মে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। ফলে প্রশ্ন ওঠে, ৮ মে মধ্যরাত থেকে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ পর্যন্ত বাংলা চালাবেন কে?  এই অবস্থায় সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন সরকার ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাজ্যপাল আরএন রবি। বিবৃতি জারি করে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। রাজ্যপাল মধ্যবর্তী দিনে রাজ্যের দায়িত্বে থাকছেন। 
উল্লেখ্য, সংবিধানে ১৭২ ধারা অনুযায়ী, রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ তার প্রথম অধিবেশনের তারিখ থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকে। পাঁচ বছর শেষে বিধানসভাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর জন্য রাজ্যপালের কোনও পৃথক আদেশের প্রয়োজন হয় না। ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (২) নম্বর দফার (খ) উপ-দফা অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে আগামী দু’দিন রাজ্যের দায়িত্বভার সামলাবেন রাজ্যপাল রবি। রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের ফলে ১৮তম বিধানসভা গঠনের পথ মসৃণ হল।
বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরদিন (৫ মে) বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?” মমতার অভিযোগ, ২০০৪ সালেও এই জিনিস দেখিনি। ১৯৭২-এর সন্ত্রাসের কথা শুনেছি। চোখে দেখিনি। তবে এই সরকার সব কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন হয়েছে। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে। সব অফিসারদের বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।’’