পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন, সরকার গঠন বিজেপির
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৮:২২ এএম, ৫ মে ২০২৬ মঙ্গলবার
ভারতের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গে মমতা শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি। আসামে বিজেপির জয়ের ব্যবধান আরো বড় হয়েছে। কেরালায় বাম ফ্রন্টের বিপরীতে জয় পেয়েছে কংগ্রেস জোট। দক্ষিণের তামিলনাড়–তে ডিএমকেকে হারিয়ে চিত্রনায়ক বিজয়ের দল টিভিকে জয় পেয়েছে। পুদুচেরিতে জয় পেয়েছে বিজেপি জোট।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এরমাধ্যমে রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারা।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হয়। সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে শুরু হয় ভোটগণনা। এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেও হেরে গেছেন। তিনি ভবানিপুর আসন থেকে নির্বাচন করে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন।
২৯৪ আসনের বিধানসভায় ১৯৫টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। অন্যদিকে, মাত্র ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস।
সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য একটি দলের প্রয়োজন ছিল ১৪৮টি আসন। সেখানে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫৬টি আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি। আর তারা সব মিলিয়ে ২০৮টি আসনে এগিয়ে আছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এক শ’রও বেশি আসন লুট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এ ছাড়া তিনি ধাক্কা দেয়া ও মারারও অভিযোগ করেছেন।
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, মমতা কালিঘাটে তার বাড়িতে চলে গেছেন।
এর আগে সাখাওয়াত নামে একটি গণনা কেন্দ্রে আসেন তিনি। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেয়া হয় পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন নিয়ে ভাষণ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৪ মে) পশ্চিমবঙ্গসহ অন্য রাজ্যের ভোটগণনা শুরু হয়। এতে অনানুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিজেপি।
মোদি তার ভাষণে বলছেন, এবারের ভোটের মাধ্যমে বাংলায় পরিবর্তন এসেছে। বাংলা ভয় থেকে মুক্ত হয়েছে এবং এখন আত্মবিশ্বাস ও উন্নয়ন দ্বারা রাজ্যটি পূর্ণ হয়েছে।
মোদি বলেছেন, বাংলায় বিজেপির এই সাফল্যের কৃতিত্ব আমি বাংলার সাধারণ মানুষকে উৎসর্গ করছি। বাংলার এই পবিত্র ভূমিতে এক নতুন সূর্যোদয় হয়েছে।“
অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নারীরা তৃণমূল ও ডিএমকে-কে শাস্তি দিয়েছে উল্লেখ করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমি কিছুদিন আগেই বলেছিলাম যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের বিরোধিতা যারা করবে, তাদের নারীশক্তির রোষানলে পড়তে হবে। আমাদের দেশের মা-বোনেরা এখন কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে-কে সেই শাস্তিই দিয়েছে।”
মোদি তার ভাষণে বলছেন, এবারের ভোটের মাধ্যমে বাংলায় পরিবর্তন এসেছে। বাংলা ভয় থেকে মুক্ত হয়েছে এবং এখন আত্মবিশ্বাস ও উন্নয়ন দ্বারা রাজ্যটি পূর্ণ হয়েছে।
মোদি বলেছেন, “বাংলায় বিজেপির এই সাফল্যের কৃতিত্ব আমি বাংলার সাধারণ মানুষকে উৎসর্গ করছি। বাংলার এই পবিত্র ভূমিতে এক নতুন সূর্যোদয় হয়েছে।“
অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নারীরা তৃণমূল ও ডিএমকে-কে শাস্তি দিয়েছে উল্লেখ করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি কিছুদিন আগেই বলেছিলাম যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের বিরোধিতা যারা করবে, তাদের নারীশক্তির রোষানলে পড়তে হবে। আমাদের দেশের মা-বোনেরা এখন কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে-কে সেই শাস্তিই দিয়েছে।’
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে বিপুল ভোটদানের হারের পর পশ্চিমবঙ্গে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নবান্নের এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নথিপত্র রক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এবারে দুদফায় বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রথম দফায় গত ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হয় দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরে।
দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয় গত ২৯ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ হয় নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানে। দুই দফাতেই এবার রেকর্ড হারে ভোটদান হয়। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের তুলনায় ২০২৬-এ ভোটার সংখ্যা ৫১ লাখ কমলেও, গতবারের তুলনায় এবার প্রায় ৩১ লাখ ভোট বেশি পড়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। আর এবার ২০২৬-এ গড়ে ভোট পড়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ, গতবারের তুলনায় এবারের নির্বাচনে প্রায় ১১ শতাংশ ভোট বেশি পড়েছে। এই বিপুল ভোটদান নজিরবিহীন এবং সর্বকালীন রেকর্ড। শতাংশের পাশাপাশি রেকর্ড তৈরি হয়েছে সংখ্যার হিসাবেও। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এবারের মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৩৪ লাখ। এসআইআর-এর জেরে এবার ভোটার সংখ্যা কমে হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ। অর্থাৎ, ২০২১-এর তুলনায় এবার ৫১ লাখ ভোটার কমেছে।
তবে মোট ভোটার কমলেও প্রদত্ত ভোট চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। ২০২১-এ ভোট দিয়েছিলেন ৬ কোটি ৩ লাখ ভোটার। আর, এবার মোট ভোট দিয়েছেন ৬ কোটি ৩৪ লাখ ভোটার। ২ দফা মিলিয়ে ২০২১-এর তুলনায় ভোটদাতার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩১ লাখ। প্রথম দফায় যে ১৬টি জেলায় ভোট হয়েছে, ২০২১-এর তুলনায় সেই জেলাগুলিতে, প্রায় সাড়ে ২১ লাখ বেশি ভোট পড়েছে। আর, দ্বিতীয় দফার ৭ জেলায় বেশি ভোট পড়েছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ।
সূত্র : দ্য হিন্দু, এনডিটিভি
