টিন সার্টিফিকেট ছাড়া মিলবে না যেসব সেবা
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৭:৪৮ এএম, ৫ মে ২০২৬ মঙ্গলবার
দেশে বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিন বা টিআইএনধারী আছেন। তাদের মধ্যে এ বছর সাড়ে ৪২ লাখ টিআইএনধারী রিটার্ন দিয়েছেন। কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিন) বা টিন সার্টিফিকেট ছাড়া অনেক কাজ করা সম্ভব না। তাই টিন নেয়া জরুরি।
অনেকে কেবল সেবা নেয়ার জন্য টিন নিতে বাধ্য হন। তবে অনেক বছর শেষে রিটার্নও দেন না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে গিয়ে টিন নেয়া যায়।
টিএন সার্টিফিকেট কী
টিন সার্টিফিকেট বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিন) হলো একটি ইউনিক নম্বর, যা বাংলাদেশে করদাতাদের শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
এটি করদাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় হিসাবে কাজ করে এবং আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতার আয়, কর পরিশোধ ও আর্থিক তথ্য সহজে বিশ্লেষণ করতে পারে।
টিন বা টিন সার্টিফিকেট ছাড়া বিভিন্ন কাজ বা সেবা নেয়া যাবে না। প্রায় ৪০ ধরনের কাজে টিন প্রয়োজন।
এর মধ্যে অন্যতম হলো-
সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছ ট্রেড লাইসেন্স নেয়া বা পুনর্নিবন্ধন নিতে হলে টিন লাগবে।
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা নির্দিষ্ট এলাকায় জমি বা ফ্ল্যাটের মালিক হলে টিআইএন থাকতে হবে। কারণ, টিন ছাড়া এসব সম্পদ নিবন্ধন নেয়া যাবে না।
গাড়ির মালিকদের টিন লাগবে।
* টিন ছাড়া গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস নবায়ন- এসব হবে না।
* ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা এনবিআরের নিবন্ধনভুক্ত যেকোনো পেশাজীবীর সনদ নিতে টিন লাগবে।
* যারা ঋণপত্র (এলসি) খোলেন বা ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট, তাদের টিআইএন লাগবে।
* সরকারি বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দরপত্র জমা দিতে টিআইএন লাগে।
* টিন ছাড়া ক্রেডিট কার্ড নেওয়া যাবে না। ক্রেডিট কার্ডধারীদের টিন থাকতে হবে।
* ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাবের মতো অভিজাত ক্লাবের সদস্য হতেও টিআইএন দরকার হবে। আবার ছেলেমেয়েদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে চাইলে অভিভাবকের টিআইএন লাগবে।
* ছোট-বড় ব্যবসা করতে টিআইএন লাগবে। যেমন মুঠোফোনের রিচার্জের ব্যবসা, মোবাইল ব্যাংকিং, পরিবেশক এজেন্সি, বিভিন্ন ধরনের পরামর্শক, ক্যাটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জনবল সরবরাহ, সিকিউরিটি সার্ভিস।
* বেশ কিছু সেবা নিতে আপনার টিন লাগবে। যেমন ঋণপত্র স্থাপন, রপ্তানি নিবন্ধন সনদ নেয়া, বীমা জরিপ প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, হিসাববিদসহ বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য, কেম্পানির পরিচালক ও স্পনসর শেয়ারহোল্ডার, বিবাহ নিবন্ধনকারী বা কাজি, ড্রাগ লাইসেন্সধারী।
* ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিলেও টিআইএন থাকতে হবে।
* জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে টিআইএন থাকতে হবে।
বর্তমানে অনেক কাজেই টিন বা টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে পাসপোর্ট করে গেলে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, লোন নিতে গেলেই আপনার কাছে টিন সার্টিফিকেট চাইবে। সরকারি বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা নিতে কিংবা কর পরিশোধ করতে প্রয়োজন হয় আয়কর নিবন্ধন সনদ বা টিন সার্টিফিকেট।
খুব সহজে ঘরে বসেই নিজের টিন সার্টিফিকেট তৈরি করে নিতে পারবেন। এমনকি বিনামূল্যে অনলাইনে এই টিন সার্টিফিকেট তৈরি করা যায়।
চলুন দেখে নেয়া যাক অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট তৈরি করার উপায়-
> প্রথমে www.incometax.gov.bd লিঙ্কে প্রবেশ করুন।
> আয়কর ওয়েবসাইটের মেনু থেকে রেজিস্ট্রার বাটনে ক্লিক করুন।
> রেজিস্ট্রার ফরমের শূন্য ঘরগুলো প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে পূরণ শেষে রেজিস্ট্রার বাটন ক্লিক করতে হবে।
> রেজিস্ট্রার ফরমে দেওয়া আপনার ফোন নম্বরে তাৎক্ষণিকভাবে একটি কোড আসবে এবং পর্দায় থাকা ডায়ালগ বক্সে কোডটি লিখে অ্যাক্টিভেট অপশনে ক্লিক করুন। আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে।
> এবার লগইন অপশনে ক্লিক করে আপনার ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টে ওপেন করুন।
> এখানে বাঁ দিকে উপরে টিন অ্যাপ্লিকেশন অপশনটি সিলেক্ট করুন।
> একটি ফরম আসবে, আপনার সব তথ্য দিয়ে পূরণ করুন এবং নেক্সট অপশনে ক্লিক করে এগিয়ে যান।
> আরও একটি ফরম পাবেন পূরণ করুন এবং নেক্সট ক্লিক করুন।
> এবার আপনি এতক্ষণ যে যে তথ্য দিয়েছেন সেগুলো দেখতে পাবেন। সংশোধন করতে চাইলে করতে পারবেন তারপর সাবমিট করে দিন।
> তৈরি হয়ে গেল আপনার টিন সার্টিফিকেট। প্রিন্টে ক্লিক করে সার্টিফিকেট প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।
তবে মনে রাখবেন, একজন ব্যক্তি জীবনে একবারই টিন সার্টিফিকেট করতে পারবেন। একবার টিন সার্টিফিকেট করা হলে আয়কর নিবন্ধন ওয়েবসাইটে লগইন করে টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন। তবে যদি কখনো ডাউনলোড করা টিন সার্টিফিকেট হারিয়ে ফেলেন তাহলে কী করবেন ভেবে অস্থির হবেন না। আয়কর নিবন্ধন ওয়েবসাইট থেকে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে খুব সহজেই আপনি আবার ডাউনলোড করতে পারবেন।
