শাপলা ট্র্যাজেডি: ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:২২ এএম, ৪ মে ২০২৬ সোমবার
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রায় শেষ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর তদন্ত সংস্থা।
রোববার (৩ মে) সকালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, আগামী ৭ জুনের মধ্যেই এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনাস্থলেই ৩২ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও মৃত্যুর তথ্য মিলেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সব প্রমাণ পেয়েছি।’
এর আগে গত ৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা দুই মাস বাড়িয়েছিলেন। তদন্তের এ প্রক্রিয়া গত এক থেকে দেড় বছর ধরে চলমান রয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
এই ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে করা ওই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, তদন্তে পুলিশের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পাশাপাশি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি কারও কারও আর্থিক সহায়তার প্রমাণও মিলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বর এলাকায় হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, রাত ১১টার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে অভিযান চালায়। এতে সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও লাঠিচার্জে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।
এই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, অতিরিক্ত আইজিপি শহীদুল হক, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ এবং র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযুক্ত রয়েছেন।
এ ছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। সব মিলিয়ে এ মামলায় ২৫ জনের বেশি আসামি রয়েছে।
