সোমবার   ০৪ মে ২০২৬   বৈশাখ ২০ ১৪৩৩   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪৭

ভেঙে পড়ার শঙ্কায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১১:৫১ পিএম, ৩ মে ২০২৬ রোববার

দুর্বল পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অংশীদার ব্যাংকের সরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ, কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা না আসায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) একীভূত কাঠামো থেকে বেরিয়ে যেতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছে। একই পথে হাঁটার বিষয়ে এক্সিম ব্যাংকও আলোচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়। লক্ষ্য ছিল দুর্বল ব্যাংকগুলো পুনর্গঠন, তারল্য সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

তবে প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ব্যাংকটির কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া ধীরগতির বলে জানা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অগ্রগতি হয়নি।

এসআইবিএল-এর সাবেক পরিচালক জাবেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশের ১৮(ক) ধারা অনুযায়ী একীভূত কাঠামো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আবেদন করা হয়েছে এবং এতে সাবেক পর্ষদের সম্মতি রয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা দুর্বল থাকায় একীভূত উদ্যোগটি শুরু থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৪৮ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত। মোট খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা, আর মোট ঋণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের পক্ষ থেকে তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এত সহায়তার পরও কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা না আসায় নীতিগত কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নতুন ব্যাংক রেজ্যুলেশন কাঠামোয় লিকুইডেশন, ব্রিজ ব্যাংকে হস্তান্তর, নতুন বিনিয়োগকারীর কাছে হস্তান্তর এবং সাবেক শেয়ারধারীদের ফিরে আসার সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংকটিতে প্রায় ৯১ লাখ ৫০ হাজার হিসাব রয়েছে। কর্মী সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। তবে অনেক শাখায় নতুন আমানত কমেছে এবং টাকা উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একীভূত প্রক্রিয়া এখনও চলমান। পরিচালনা কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকার স্থায়ীভাবে ব্যাংকগুলো নিজেদের কাছে রাখার উদ্দেশ্যে একীভূত করেনি। পরিস্থিতি উন্নত হলে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।

অন্যদিকে এসআইবিএল তাদের আবেদনে পৃথকভাবে পুনর্গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ কমানো, মূলধন শক্তিশালী করা, ২২টি সরকারি হিসাব পুনরায় চালু করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ফেরত আনা এবং ১০ বছরের জন্য ১১ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তার কথা বলা হয়েছে।