শনিবার   ০২ মে ২০২৬   বৈশাখ ১৮ ১৪৩৩   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪৭

১৪ বোয়িং বিমান কিনছে বাংলাদেশ

আজকাল রিপোর্ট, ঢাকা থেকে

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:১১ এএম, ২ মে ২০২৬ শনিবার



মার্কিন বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ হবে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এগুলো বিমানের বহরে যুক্ত হবে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে এ বিষয়ে চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি চুক্তিতে সই করেন।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উজোজাহাজ রয়েছে। নতুন ১৪টি যুক্ত হলে মোট উড়োজাহাজে হবে ৩৩টি। বিদ্যমান উড়োজাহাজের মধ্যে ১৪টি বোয়িং কোম্পানির। নতুন যুক্ত হলে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ দাঁড়াবে ২৮টিতে। বর্তমানে চারটি ওয়াইড বডির বোয়িং ৭৭৭- ৩০০ ইআর, চারটি ৭৮৭-৮ ও দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ন্যারোবডির বোয়িং- ৭৩৭ এয়ারক্রাফট রয়েছে। বোয়িংয়ের বাইরে বিমানের বহরে পাঁচটি স্বল্পপাল্লার ড্যাশ কিউ- এইট ৩০০ মডেলের এয়ারক্রাফট রয়েছে। চুক্তি হওয়া নতুন ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে ওয়াইড-বডির ‘৭৮৭-১০’ মডেলের ৮টি ও ‘৭৮৭-৯’ মডেলের ২টি এবং ৪টি ন্যারো-বডির ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ মডেলের উড়োজাহাজ রয়েছে। ৭৮৭-১০ মডেলের উড়োজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের রুটে, ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা রুটে চালানোর পরিকল্পনা আছে বিমানের।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এসব নতুন উড়োজাহাজ বিমানের বহর আধুনিকীকরণ, অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক এভিয়েশন মার্কেটে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ফ্রান্স থেকে ১০টি এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিমানের ক্রয়াদেশ যাচ্ছে বোয়িয়ের ব্যাগে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাস থেকে ১০টি বড় উড়োজাহাজ ‘কেনার প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে।
এয়ারবাস থেকে আটটি যাত্রীবাহী ও দুটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ কেনার বিষয় ‘পর্যালোচনার’ মধ্যে আমেরিকান কোম্পানি বোয়িংও তৎপর হয়ে ওঠে। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে দুপক্ষেরই দেনদরবার চলে। এর মধ্যেই ২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর হোয়াইট হাউজে বসেই যে বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করেন, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে।
ট্রাম্পের ৩৫ শতাংশ শুল্কের মধ্যে গত বছরের জুলাইয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের কথা জানায় অন্তবর্তী সরকার।
চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, বিমানের পর্ষদ চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেইন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এবং বোয়িংয়ের সেলস উপস্থিত ছিলেন।