শনিবার   ০২ মে ২০২৬   বৈশাখ ১৮ ১৪৩৩   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪৭

বিপার জমজমাট বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত

আজকাল রিপোর্ট -

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০২:০৪ এএম, ২ মে ২০২৬ শনিবার


 
 
প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির চর্চায় ধারাবাহিক সৃজনশীলতার আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ রাখল বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা)। গত ২৫ ও ২৬ এপ্রিল নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক নান্দনিক ও আবেগঘন মিলনমেলায়। গত ২৬ এপ্রিল রোববার অনুষ্ঠিত মূল আয়োজনে উপস্থিত দর্শকরা যেন ফিরে যান অতীতের স্মৃতিমাখা সময়ে।

পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল নস্টালজিয়ার আবহ, যেখানে বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান “রুমঝুম”-এর আবহ মঞ্চে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। অনুষ্ঠানে এই অনুষ্ঠানের পরিচালক লায়লা হাসানকে সম্মাননা জানানো হলে মুহূর্তটি বিশেষ তাৎপর্য পায়। শিশুদের পরিবেশনায় “প্রজাপতি প্রজাপতি কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা” গানটি দর্শকদের মুগ্ধ করে। একইভাবে “মেঘের কোলে রোদ হেসেছে” পরিবেশনা অনেককেই ফিরিয়ে নেয় শৈশবের স্মৃতিতে। শিশু-কিশোরদের সাবলীল অংশগ্রহণ এবং সৃজনশীল কোরিওগ্রাফি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।

 

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্ব “রুপালি স্মৃতি” পুরনো বাংলা চলচ্চিত্রের গানের এক ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনা হিসেবে দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে। ১৯৫৬ সালের “মুখ ও মুখোশ” থেকে শুরু করে আশির দশকের বিভিন্ন চলচ্চিত্রের গান ধারাবাহিকভাবে পরিবেশন করা হয়। প্রতিটি গানের আগে সংশ্লিষ্ট নির্মাতা, গীতিকার ও সংগীত পরিচালকদের তথ্য তুলে ধরা হয়, যা এই আয়োজনকে শুধু বিনোদন নয়, বরং এক ধরনের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে পরিণত করে। সংগীত পরিচালক নাদিম আহমেদের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় এই অংশটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।লাইভ যন্ত্রসংগীতে পরিবেশনা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কণ্ঠ দেন সেলিমা আশরাফ, নীলুফার জাহান, লেমন চৌধুরী, আলভান চৌধুরী, ফাবিহা হোসেন নিসা এবং কাজী এম হক। নৃত্য পরিচালনায় এ্যানী ফেরদৌস ও তাঁর দল প্রতিটি পরিবেশনাকে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করেন। চমৎকার কস্টিউম, প্রপস ও আলোর ব্যবহারে মঞ্চসজ্জা হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন।

এদিনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিবেশনা ছিল এনওয়াইইউ থেকে সদ্য গ্রাজুয়েট অভিনেত্রী রুপন্তি ওয়াজেদের একক নাট্য উপস্থাপনা “এ লাভ লেটার টু মাই পিপল”, যা দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।অনুষ্ঠানের সূচনা হয় “এসো হে বৈশাখ” গানের সঙ্গে বিপার অভিভাবকদের নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে। পুরো অনুষ্ঠানটি সাবলীলভাবে উপস্থাপনা করেন বিপার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নাদিয়া ইসলাম দৃষ্টি। নেপথ্য বর্ণনায় ছিলেন জারিন মাইশা খান ও ইউসুফ খান।
 
 
 
 
 

এর আগে ২৫ এপ্রিল শনিবার অনুষ্ঠিত প্রথম দিনের আয়োজন ছিল মূলত সংগীত ও আবৃত্তিনির্ভর। শিশু-কিশোরদের সমবেত সংগীত “ধূসর বৈশাখ”, আবৃত্তি “ঢাক ঢোল ঝাঁঝর বাজে” এবং সমবেত পরিবেশনা “ফাগুন লেগেছে শাখে শাখে” দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। দীর্ঘ তিন দশকের পথচলায় বিপা প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুধু শিল্পচর্চা নয়, নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিকড়ের পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে, যা প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মকে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করবে।