যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ নিয়ে উদ্বেগ
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:৪৪ এএম, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার
বাংলাদেশি দুইজন ডক্টরাল শিক্ষার্থী নিখোঁজ হবার ঘটনা নিয়ে কোন তথ্য মিলেনি গত ৭ দিনেও। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুইজন বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের পরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ প্রবাসী সবাই উদ্বেগ জানিয়েছেন। জামিল ও বৃষ্টির মতো মানুষ কখনো কাউকে না জানিয়ে উধাও হওয়ার মানুষ নন। জামিলের ভাই জুবায়ের আহমেদ বাংলাদেশ থেকে বলেছেন, ‘সাত দিন হয়ে গেছে। আমরা অসহ্য যন্ত্রণায় আছি। আমার স্বপ্নেও ভাবতে পারি না যে সে কাউকে না জানিয়ে উধাও হবে।’ বৃষ্টির ভাই জাহেদ হাসান প্রান্তও বোনের উদ্দেশে আবেদন করেছেন, ‘শুধু নিরাপদ থাকো এবং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করো।’
নিখোঁজের দিনটির ঘটনাপ্রবাহ যত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, ততই নতুন প্রশ্ন উঠে আসছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জামিল তার অ্যাভালন হাইটস অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বেরিয়েছেন, কিন্তু পাসপোর্ট রেখে গেছেন। সকাল ১১টায় তার ফোন সর্বশেষ তার অ্যাপার্টমেন্টের কাছেই ট্রেস হয়েছিল। একই দিন সকাল ১০টায় বৃষ্টি ইউএসএফ-এর ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিল্ডিংয়ে ছিলেন ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও লাঞ্চ বক্স রেখে চলে গেছেন, সঙ্গে ছিল শুধু পার্স ও ফোন। বিকেল ৫টায় তার ফোন সর্বশেষ ইউএসএফ ক্যাম্পাস এলাকায় ট্রেস হয়েছিল। দুইজনের পাসপোর্টই পাওয়া গেছে অর্থাৎ দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না। বৃষ্টি সেদিন দুপুরে মায়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন জানিয়েছিলেন, পরে বন্ধুর সঙ্গে বাজার করতে যাবেন। তবে জামিলের কথা উল্লেখ করেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। শুরুতে তারা পরিবারকে মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ না করতে বলেছিল, কারণ ‘অপহরণের সম্ভাবনা’ তাদের প্রাথমিক ধারণা ছিল। কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র না পাওয়ায় পাঁচ দিন পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে যা নিয়ে পরিবার প্রশ্ন তুলেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে এফবিআইকে মামলায় যুক্ত করার অনুরোধ করেছে এবং নিশ্চিত হয়েছে যে দুইজনের কেউই আইস-এর হেফাজতে নেই। জামিল লিমন পিএইচডি করছেন জিওগ্রাফি ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড পলিসিতে, আর নাহিদা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। এই বিভাগগুলো সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত না হলেও, পরিবেশ বিজ্ঞান ও রাসায়নিক প্রকৌশল বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংবেদনশীল গবেষণার সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারে। নিখোঁজ হওয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে আগের কিছু ঘটনার মিলও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে যেমন পাসপোর্ট রেখে যাওয়া, হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং কোনো পূর্বাভাস না থাকা।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামিল ও বৃষ্টির খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন কেন পুলিশ দেরিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলো, কেন এখনো কোনো অগ্রগতি নেই, এবং তাদের একাডেমিক গবেষণার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা। তবে এখন পর্যন্ত এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি।
