শনিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৬   বৈশাখ ১১ ১৪৩৩   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪৭

বিএনপির সভায় হট্রগোল ও চেয়ার নিক্ষেপ

আজকাল রিপোর্ট -

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:৩০ এএম, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার

 

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন ও কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস আহমেদের সামনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলো। কর্মিরা চেয়ার নিয়ে একে অপরের দিকে তেড়ে গেলেন। অকথ্য ভাষায় নেতাদের গালাগালি করলেন। হাতজোড় করেও উত্তেজিতদের থামানো গেল না। অভিযোগ- আনোয়ার হোসেন খোকন কথা রাখেননি।  প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের কমিটি দেবেন। ব্যর্থ হয়েছেন। যে কারনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে  এলেই বারবার হয়রানির শিকার হন। কমিটি দিচ্ছেন- এই আশ্বাসে কাটিয়ে দিলেন দুটো বছর। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিলো প্রচন্ড ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত ২০ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যায় স্টেট বিএনপির কর্মী সম্মেলনে। কর্মী সম্মেলনটি জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে অনুষ্ঠিত হয়।

নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্যাহ আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান সাঈদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন বাদল, বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহীন, বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসীম ভূইয়া, স্টেট বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ভিপি জসীম, বিএনপি নেতা আব্দুস সবুর, বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর সরকার, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাযহারুল ইসলাম জনি।

অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের ক্ষোভের জবাবে আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ৪৭ বছর ধরে রাজনীতি করে আজকের এই পর্যায়ে এসেছিলেন। রাজনীতি করতে গেলে ফুলের মালা যেমন পড়তে হয় ঠিক তেমনিভাবে অনেক সময় অন্যমালাও পরতে হয়। সুতরাং আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। রাজনীতি করতে হলে দলীয় শৃঙ্খলা মানতে হবে। তিনি বলেন, অভিযোগ থাকলে প্রথমে স্থানীয় নেতাদের বলবেন, সেখানে সমাধান না হলে আমাকে বলবেন, তাতেও না হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের বলবেন- কিন্তু দলীয় শৃঙ্খলা মানতে হবে। মূলত: অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছিলো। আনোয়ার হোসেন খোকন যখন আসেন তখনই নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়। উত্তেজনার এক পর্যায়ে সভাপতি মাওলানা অলিউল্যাহ আতিকুর রহমান বলেন, এখানে মাস্তানী করা যাবে না। ফলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় কথা কাটাকাটি, হাতিহাতি এবং ধাক্কাধাক্কি। এক পর্যায়ে কোন কোন কর্মীকে চেয়ার তুলতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে গিয়াস আহমেদসহ অন্যান্যরা নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বার বার নেতাকর্মীদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এই ক্ষোভের জন্য প্রধান অতিথিও কম দায়ী নয়, আবার সুপার ফাইভের নেতারাও দায়ী। কেউ প্রধান অতিথির গত ২ বছরের ব্যর্থতার সমালোচনা বা সুপার ফাইভের সমালোচনা করলেই পাল্টা জবাব দেয়া হয়। এই জবাব দিতে গিয়েই প্রধান অতিথিকে আরো অপমান, অপদস্ত হতে হয়। যদিও তিনি নিজেই বলেছিলেন কারো বাদ স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না, তাকে বলতে দিতে হবে, পাল্টা আপনার কিছু বলার থাকলে আপনি বলবেন, কিন্তু কোন সময় তিনি ও তার পকেটের সুপার ফাইভ তা মেনে নিতে চাননি। বার বার আনোয়ার হোসেন খোকনকে প্রশ্ন করা হয় গত ২ বছরেও কেন সুপার ফাইভকে সুপার সিক্স করা যায়নি? বাচ্চা হতে যেখানে ১০ মাস লাগে সেখানে একটি কমিটি প্রসব করতে কেন দুই বছরের বেশি লাগবে। আপনার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ধ্বংসের মুখে। তারা আরো বলেন, আমরা ত্যাগী নেতাকর্মী। আমরা বাটার বা ঘি দিতে পারি না, তাই আপনি আমাদের কথা শুনেন না, কমিটিতে আমাদের জয়গা হয় না। আমাদের কমিটিতে জায়গার দরকার নেই, আমরা শহীদ জিয়া, প্রয়াত খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার রাজনীতি করি। আমরা পদ পদবি চাই না, তবে স্বজনপ্রীতি ও পকেট কমিটিও চাই না। যেখানে অন্যায় সেখানেই আমরা প্রতিবাদ করবো।

এক পর্যায়ে একদল নেতাকর্মী অডিটোরিয়াম ত্যাগ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।