শনিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৬   বৈশাখ ১১ ১৪৩৩   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪৭

কে হচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব?

আজকাল রিপোর্ট -

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:১১ এএম, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার


  
 
মির্জা ফখরুলের অবসরের বক্তব্য প্রচারের সাথে সাথে আলোচনা শুরু। বিএনপির মহাসচিব কে হচ্ছেন? তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান, এটা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। তাহলে তার মহাসচিব হবেন কে? কাকে বেছে নেবেন তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো তার সঙ্গে মিলে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য। আলোচনায় আছেন  সালাহ উদ্দীন আহমেদ, শামসুজ্জামান দুদু, , জয়নুল আবদীন ফারুক, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিবুন নবী খান সোহেল। মহাসচিবের ব্যাপাওে চূড়ান্ত সিদ্ধানটি নেবেন তারেক রহমানই। 

আসলে শুধু ক্ষমতাই নয়, এবার নিজেদের সাংগঠনিক শক্তিমত্তা ঝালাই করে নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিএনপি। দলের সাংগঠনিক কাজ গতিশীল করতে দীর্ঘ এক দশক পর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করতে যাচ্ছে বিএনপি। এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সম্ভবত আগামী ঈদুল আজহার পর এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। যদিও ঈদুল আজহার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর একটা পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের। ফলে সব বিবেচনা করেই ঠিক করবে কাউন্সিলের জন্য সঠিক সময় বেছে নেবেন তারা কোন সময়টাকে। 

দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার রেওয়াজ আছে। ইতিপূর্বে রাজনৈতিক নির্যাতন, নিপিড়ন ছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সীমাবদ্ধতায় নির্দিষ্ট সময়ে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ষষ্ঠ কাউন্সিল হয়েছে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। সেটাও সেভাবে হয়নি। উপস্থিত থাকতে পারেনি অনেকে। তারেক রহমানও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না। যদিও ছিলেন খালেদা জিয়া। এবারে হবে সপ্তমবারের মতো।

ফলে এ কথা বলাই যায়, বিগত দিনে, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দলীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই কর্মসূচি ছিল সংকুচিত। সব আয়োজন ছিল সাদামাটা। তাই নিজেদের অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার থাকবে ভিন্নমাত্রা। উৎসবের আমেজ রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ঘোষণা হবে নতুন নেতৃত্ব। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারা অনুযায়ী ৮ বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা তারেক রহমান। তবে গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর গত ৯ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি ভারমুক্ত হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।

আর মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্বগ্রহণ করেন ২০১৬ সালের কাউন্সিলে। এই দুই পদে প্রথমটিতে আসছেন তারেক রহমান এটা নিশ্চিত। বর্তমানেও তিনি। তবে মির্জা ফখরুল আর থাকছেন না এটা তিনি নিজেই ক্লিয়ার করেছেন। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবসরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। কাউন্সিলের পর অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।’ স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ছিল রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো ইচ্ছে আছে কি না তার? জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এ ধরনের প্রত্যাশা আমার কখনই ছিল না। আমি এ পর্যন্ত যেখানে এসেছি, সেটা আমার ভাগ্য নিয়ে এসেছে। আমার কাজটা ছিল, কিন্তু আমার আকাক্সক্ষা এখানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করি না।’ 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন। ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। এর আগে, ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন মির্জা ফখরুল এবং সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশব্যাপী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুলকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।

ফলে মির্জা ফখরুলের স্থানে কে আসবেন সেটা নিয়ে রয়েছে দীর্ঘ আলোচনা। কারণ বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান খালেদা জিয়ার আমলে বিভিন্ন স্থানে থাকা সবাইকে সেভাবে পদে দেননি। তারুণ্যের সংমিশ্রণে সরকার পরিচালনা করছেন তিনি। এতে বহু সিনিয়রকে তিনি সাইটে রেখেছেন। কিন্তু তাই বলে তিনি সিনিয়রদের অশ্রদ্ধা করছেন বা দূরে ঠেলছেন তা নয়। সবাইকে তিনি কাছে রেখে যাকে যেখানে রাখলে তার যথার্থ সম্মান হবে সেটা করছেন। কারণ তিনি আগ থেকেই বলে এসেছিলেন যে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয়া সব দলের নেতাদের নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার পরিচালনা করবেন। সম্ভব সবটুকুই তিনি করার চেষ্টাও করেছেন। 

এছাড়া গত কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে জুলাই, আগস্টে যেসব পরিবর্তন হয়েছে, সেখানে নতুনত্বের জয়জয়কার। সংসদেও সেটা স্পষ্ট। কোটা বিরোধী আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনার বা সমন্বয়করা নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করে এখন সংসদেও ভূমিকা রাখছেন। এতে করে রাজনৈতিক দল সিনিয়র, অভিজ্ঞ এসব পুঁজি করে বসে থাকলে পিছিয়ে যেতে হবে বৈকি। ফলে সব দিক খেয়াল করেই এগুচ্ছেন। এতে করে সব দিক বিবেচনা করে মহাসচিব পদটাও তিনি বাছাই করবেন। যদিও কাউন্সিলে সেটা নির্ধারিত হবে ভোটাভুটিতে। 

একই সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে আসছে নতুন নেতৃত্ব, এটা প্রায় নিশ্চিত। নতুন কমিটিতে স্থান পাবেন যোগ্য ও ত্যাগীরা। আলোচনায় আছেন অনেকে। পূরণ করা হবে স্থায়ী কমিটির শূন্যস্থানও।