আলোচিত মুখগুলো বাদ
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:০৮ এএম, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার ২০ এপ্রিল রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৩৬ জনের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তালিকায় একঝাঁক নতুন ও ত্যাগী নেত্রীর স্থান মিললেও বাদ পড়েছেন রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত একাধিক হেভিওয়েট নেত্রী ও তারকা প্রার্থী। এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে ও বাইরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
মনোনয়নবঞ্চিতদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। দলের প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাসের স্ত্রী হওয়ায় তার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াও তালিকায় স্থান পাননি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই নেত্রী নবম সংসদের সংরক্ষিত আসনে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
এ ছাড়া জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা ও বেবী নাজনীনও মনোনয়ন পাননি। কনকচাঁপা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের একটি আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করেছিলেন। অন্যদিকে বেবী নাজনীন দীর্ঘদিন ধরে বিদেশের মাটিতেও দলের হয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মাঠে থেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আরও কয়েকজন পরিচিত মুখ- রিজিয়া পারভীন, দিঠি আনোয়ার এবং ফারহানা চৌধুরীও শেষ পর্যন্ত দলের মনোনয়ন পাননি।
ছোট পর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমকও বাদ পড়েছেন মনোনয়ন তালিকা থেকে। কয়েক দিন আগেই ঘটা করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেলেন না তিনি। একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে আলোচিত মডেল মেঘনা আলমকে। গণ অধিকার পরিষদ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসা মেঘনা বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেও জায়গা পাননি চূড়ান্ত তালিকায়।
পল্লিকবি জসীম জ্যে উদ্দীনের কন্যা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ, বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবীসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেত্রীও এবার মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রয়াত নেতা নাসির উদ্দীন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ এবং ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলের স্ত্রী নাঈমা খন্দকারও মনোনীত হননি। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসা ফারজানা জাহান সিঁথি এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর সাবেক পুত্রবধূ ফারজানা বুবলীকে নিয়েও বেশ আগ্রহ ছিল রাজনৈতিক মহলে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি তারা। মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে চমক সরাসরি ভক্তদের সঙ্গে কথা বলেন। শুরুতেই নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “আমি আমার পরাজয়কে উদযাপন করছি। আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত সাহস। আমি আরো দুইশবার ফেল করব, দুইশবার চেষ্টা করব। এটা আমার শুরু। আমার রাজনৈতিক পথচলার শুরুই হলো এমপি প্রার্থী হয়ে। যারা যোগ্য, তাদেরই আগে সুযোগ দেওয়া হবে-এতে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।” শুধু সমালোচনা নয়, ভক্তদের কাছ থেকে ইতিবাচক মন্তব্য, সমর্থন এবং শুভকামনাও পেয়েছেন চমক। সেসব প্রতিক্রিয়ায় অনুপ্রাণিত হয়ে চমক বলেন, “খেলা তো মাত্র শুরু হলো। সামনে জাতীয় নির্বাচন করব।”
কনক চাঁপা চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার পর তার ভেরিফাইড পেইজে 'বাংলাদেশিদের জন্য ‘খোলা চিঠি’ দেন কনক চাঁপা। তিনি লিখেন, ইনশাআল্লাহ আমি আছি দেশের হয়ে, দশের হয়ে। আর কিছু যদি নাও পারি, মরে গিয়ে মাটিতে মিশে মাটি উর্বর করতে পারব নিশ্চয়ই। আমার জন্য দোয়া করবেন।
হেভিওয়েট সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। তার স্বামী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব হারুনুর রশীদ চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে দলের মনোনয়ন পেলেও জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে পরাজিত হন। পরে তাকে চাপাইনবাগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাপিয়া সরাসরি নির্বাচনেও মনোনয়ন চেয়ে পাননি। এবার সংরক্ষিত আসনেও পেলেন না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখার মাধ্যমে রাজনীতিতে তার প্রথম উপস্থিতি। এরপর হঠাৎ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় নতুন করে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হলেও দলীয় সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এবার ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। মোট ১ হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও প্রায় ৯০০ জন প্রার্থী আবেদন জমা দেন। গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়। সেই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হয়।
