সোমবার   ২০ এপ্রিল ২০২৬   বৈশাখ ৬ ১৪৩৩   ০৩ জ্বিলকদ ১৪৪৭

লোডশেডিংয়ে ‘টাইম লিমিট’ চান ব্যবসায়ীরা

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৭:১৯ এএম, ২০ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার

বৈশ্বিক পরিস্থিতি সবার জানা। জ্বালানি সংকটে প্রস্তুতিও রয়েছে। দোকান বন্ধে সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ও মানা হচ্ছে। তবু কেন লোডশেডিং। সিলেটের ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন এটি। আর এই প্রশ্ন উত্থাপন করে তারা দাবি তুলেছেন- লোডশেডিংয়ে টাইম লিমিটের। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ঘোষণা দিয়ে লোডশেডিং করা হলে প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন তারা। গতকাল সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলমের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়টি জানিয়েও এসেছেন ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে সিলেটের অতিমাত্রার লোডশেডিং কমাতে তারা জ্বালানিমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন- সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সঠিক কোনো তথ্য মিলছে না। গতকাল বিকাল ৩ টা। সরবরাহের নথি ঘেঁটে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান- চাহিদা মতো বিদ্যুৎ মিলছে। কিন্তু ওই সময় দেখা গেছে; নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। প্রশ্ন করা হলে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান- তারা এ বিষয়টি জানেন না। তাদের তথ্য জানান দিচ্ছে লোডশেডিং নেই। সিলেট বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় আড়াইশ’ মেগাওয়াট। সিলেট বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানিয়েছেন- গতকাল বিকাল ৪টায় ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। তবে বিকাল ৫টার দিকে কোনো ঘাটতি ছিল না। চাহিদা মতো বিদ্যুতের চাহিদা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন- যখন বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল তখন তো লোডশেডিং হওয়ার কথা না। হচ্ছেও না। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- সিলেটে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে একটি লুকোচুরি আছে। সেদিকটায় আপাতত ব্যবসায়ীরা যেতে চাচ্ছেন না। ধরে নেয়া হচ্ছে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ওই সময়টা যদি ঘোষণা দিয়ে লোডশেডিং লিমিট জানিয়ে দেয়া হয় তাহলে সবাই উপকৃত হবেন। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেটের মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন জানিয়েছেন- ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিমিট সংক্রান্ত যে মৌখিক প্রস্তাবনা দিয়েছেন সেটিতে জেলা প্রশাসকও সায় দিয়েছেন। বিষয়টি সিলেটের মন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছেন। সেটি ব্যবসায়ীরা করবেন। তিনি বলেন- সিলেট নগরে দেখা যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। সকাল ১০টায় ব্যবসায়ীরা দোকান খুলেন। বন্ধ করে দেন ৭টায়। এই সময়ের মধ্যে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থীরাও তাদের প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। এর প্রভাব জনজীবনে পড়তে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এদিকে ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎমন্ত্রী বরাবর যে স্মারকলিপি দিয়েছে সেখানে তারা জানিয়েছেন- চলমান বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হচ্ছে। বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে ব্যবসায়ীরা জ্বালানি তেল দিয়ে জেনারেটর ব্যবহার করেন। বিকল্প ব্যবহারের জন্য জ্বালানি তেলও মিলছে না। এতে করে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে জানান তারা। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেটের সহ-সভাপতি আব্দুল মল্লিক মুন্না জানিয়েছেন- লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায়ীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। তেলের অভাবে জেনারেটরও চালু করা যাচ্ছে না। এতে করে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই লোকসানের মুখে রয়েছেন। পরিস্থিতি এমন হয়েছে ব্যবসায়ীরা দোকানের স্টাফদের বেতন দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সিলেট জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়াজ মো. আজিজুল করিম জানিয়েছেন- সিলেটে বিদ্যুতের যে উৎপাদন হচ্ছে তার অর্ধেকও চাহিদা নেই। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ- জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। সেখান থেকে আমরা পাচ্ছি। এটা সিলেটবাসীর সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। এদিকে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ফালাহউদ্দিন আলী আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- লোডশেডিংয়ের ডিক্লারেশন থাকলে সবার জন্য ভালো। সিলেটে এমনিতেই কলকারখানা নেই। কিছু কিছু উৎপাদনশীল কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে খাদ্যজাত দ্রব্যের কারখানায় হঠাৎ করে লোডশেডিং হলে উৎপাদনে থাকা পণ্য তৈরি হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে প্লাস্টিক কারখানাগুলোতে এমন ঘটনা ঘটছে। এতে করে উৎপাদনে ব্যাঘাত হচ্ছে। তিনি বলেন- বিদ্যুতের কারণে বড় বড় স্থাপনা ও মার্কেটে থাকা পাওয়ারের সাব-স্টেশন নষ্ট হচ্ছে। অনেক মেশিনারিজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যদি ঘোষণা থাকে তাহলে ওইসময় লোডশেডিংয়ের জন্য সবাই প্রস্তুত থাকতে পারবেন বলে জানান তিনি।