তারেক রহমানের ২ দিনের দিল্লী সফরে সবুজ সংকেত
হাসান মাহমুদ
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:২২ এএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুইমাস বয়সি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আবার তিন দেশ সফরে আজ শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল তুরস্কে অবস্থান করার কথা। সেখান থেকে তিনি বেলজিয়াম এবং ইথিওপিয়া সফরে যাবেন। এবারে তাঁর গত ৭-৯ এপ্রিলের তিন দিনের ভারত সফরকে বাংলাদেশ ‘গুডউইল ভিজিট’ বললেও ভারত সরকার এটিকে ‘অফিসিয়াল’ ভিজিট হিসেবে চিত্রিত করছে। মরিসাস যাবার পথে ভারতে বিরতি দিয়ে ড. খলিলের তিন দিনের সফর নিয়ে ঢাকার কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে বলে সূত্রে জানা যায়। দু’দেশের মধ্যে গভীর সম্পর্ক স্থাপন, তারেক রহমানের ২ দিনের ভারত সফরও এর মধ্যে নিহিত বলে জানা যায়। খলিলুর রহমান ড. ইউনূস সরকারে থাকার সময় ১৯ নভেম্বর ২০২৫ নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাথে দিল্লীতে গিয়ে বৈঠক করেছিলেন। তবে ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে থাইল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিমস্টেক সামিটের সাইডলাইনে তিনি বৈঠক করেছিলেন। তাতে উভয়ের সম্পর্ক ছিল উত্তাল। এবার ড. খলিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েই প্রথম বিদেশ সফর করেন সৌদি আরবে। জেদ্দায় ‘ওআইসি’ বৈঠকে তখন অংশ নেন। পরে তিনি লন্ডন, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন, ভারত এবং মরিশাস সফর সম্পন্ন করেছেন। এবার ভারতে গিয়ে প্রভাবশালী অজিত দোভালের সঙ্গে আবার বৈঠক সেরেছেন। অজিত দোভালের সঙ্গে বারবার তাঁর বৈঠক বিশেষ ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
একটি বিশেষ বিমানে ঢাকায় এসে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি। শোকাতুর পরিবেশে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। তাদের ওই উপস্থিতি ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের সফরের ৬ সপ্তাহ পর তারেক রহমান নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। জানা গেছে, এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একাধিক বার্তা চালাচালি এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ- সবই ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে নয়াদিল্লি সুবজ সংকেত দিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ভারতীয়দের জন্য সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয় এবং ড. খলিলুর রহমানকে নয়াদিল্লিতে ৩ দিনের সফরে পাঠানোর মাধ্যমে ঢাকা পাল্টা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত সরকারের আমন্ত্রণ ও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কেবল তারিখ নির্ধারণ বাকী রয়েছে বলে প্রকাশ।
বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জয়শঙ্কর আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভিসা- বিশেষত চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক বিভাগগুলি চলতি মাসেই সহজ করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন যে, বাংলাদেশিদের জন্য সমস্ত বিভাগের ভিসা পুনরায় শুরু করা সম্পর্কের উন্নতির জন্য একটি শক্তিশালী সংকেত দিচ্ছে ভারত। মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত হওয়ার, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায়গুলি অন্বেষণ করার জন্য ভারতের আকাঙ্খার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যোগ করেছেন যে শীঘ্রই ফলো-আপ অফিসিয়াল বৈঠক আশা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে মতবিনিময় করেছে।
ড. খলিলের সফর শুরু হয় মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২৬। তিনি ১৭:১৫ মিনিটে দিল্লি পৌঁছান। স্থানঃ সেরেমোনিয়াল লাউঞ্জ, টি৩, আইজিআই বিমানবন্দর। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাঁকে স্বাগত জানান। বুধবার, এপ্রিল ০৮, ১৩:০০ মিনিটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। স্থানঃ হায়দরাবাদ হাউস। ১৬:৩০ মিনিটে, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক হয়। স্থানঃ বাণিজ্য ভবন। ১৭:৩০ মিনিটে, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে বৈঠক। স্থানঃ ৬, আকবর রোড। বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ০৯, ২০২৬ মরিসাস যাত্রা করেন। এর আগে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও বৈঠকে সেরেছেন।
ভারত বলছে, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের প্রথম ভারত সফরকে একটি ইতিবাচক সূচনা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যদিও উভয় দেশ দীর্ঘস্থায়ী এবং উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলি কীভাবে মোকাবেলা করে তার উপর উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যত নির্ভর করবে। বৈঠকের পর, ঢাকা ও নয়াদিল্লি সামগ্রিক সম্পর্কের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পৃথক বিবৃতি প্রকাশ করে কিন্তু সম্পর্কের অনেক নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ অক্ষত থেকে যায় বা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পলাতক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল ও অন্যান্যদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি বাংলাদেশ উত্থাপন করে। ভারত হাদি হত্যার অভিযুক্তদের ফিরিয়ে দিতে সম্মত হলেও, বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বা কামাল সম্পর্কে কোনও প্রতিক্রিয়া তারা উল্লেখ করেনি।
