বৃহস্পতিবার   ১১ জুন ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩   ২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

শীর্ষ গোয়েন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যময় সফর

হাসান মাহমুদ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৪:৩২ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার


 
 

বাংলাদেশের শীর্ষ তিন গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, এনএসআই এবং এসবির ৮ জন সিনিয়র কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আমন্ত্রণে একযোগে আজ শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের এই সফরকে ঘিরে ভারত ‘অতি সতর্ক নজরদারি’ চূড়ান্ত পর্যায়ে জারি রেখেছে বলে জানা গেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। জে: ওয়াকার গত ৩১ মার্চ জর্জিয়া স্টেট কর্তৃক জাতিসংঘ শান্তি মিশনে অবদানের জন্য সম্মাননা অর্জন করেন। জানা যায়, সিনেটর শেখ রহমান ছিলেন এই আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা। তাঁরা তিনজন ভিন্ন ইভেন্টে যুক্ত থাকলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ডা. জোবায়দা রহমান সফরের শেষ দিকে একটি ‘অতি স্পর্শকাতর ইস্যু’ নিয়ে ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক জেমস এফ মরিয়ার্টির সঙ্গে বৈঠক  সেরেছেন বলে প্রকাশ। মরিয়ার্টি ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জানা যায়, ওয়াশিংটন সফরের সূত্র ধরেই ড. খলিলুর রহমান তিনদিন আগে গত ৭ এপ্রিল আবার ভারত সফরে যান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অজিত দোভাল, অমিত শাহ, পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের ‘অতি স্পর্শকাতর’ ইস্যুতে ভারতকে ‘কনভিন্স’ করার জন্য। খলিল সেখানে ভারতের সাংবাদিকদের সঙ্গেও এবার কথা বলেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে জে: ওয়াকার তার অবস্থানকে আরও জোরালো করার পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চেয়েছেন।
জানা যায়, এর আগে বাংলাদেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডিজিএফআই’ প্রধান মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীর গত ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) থাই এয়ারওয়েজে ব্যাংকক হয়ে গোপনে পাকিস্তান যাওয়া নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।  নয়াদিল্লীর সাউথ ব্লক তার এই সফর মেনে নিতে পারেনি। পাকিস্তানে বাংলাদেশের গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল রশিদ পাক গোয়েন্দা সংস্থা ও শীর্ষ পাক সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তার তিন দিনের সফরে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর কায়সার রশিদকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থেকে পদোন্নতি দিয়ে মেজর জেনারেল করে ‘ডিজিএফআই’ প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। দায়িত্ব পাবার কয়েক সপ্তাহ পরই অত্যন্ত গোপনে কায়সার রশিদ স্ত্রীসহ ভারত সফর করেন চিকিৎসার নাম করে। তিনি দিল্লীতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। জে: রশিদ দিল্লীতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর শীর্ষ ব্যক্তিসহ ‘সিডিএস’ কর্মকর্তা এবং অজিত দোভালের মতো নিরাপত্তা পলিসি মেকারের সঙ্গেও বৈঠক সেরে ঢাকায় ফেরেন। ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন এবং ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএমআই) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর এস রমন-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ‘ডিজিএফআই’ প্রধান  মেজর জেনারেল রশিদ। তবে পাকিস্তান সফরের কারণে নানা ধুম্রজাল ভারত তৈরি করেছে বলে জানা যায়।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের তিন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সফর নিয়ে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতার নির্দিষ্ট ক্ষেত্র সম্পর্কে ব্রিফিং হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, পারস্পরিক স্বার্থের আঞ্চলিক বিষয়গুলো নিয়েও তথ্য বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হবে। যা নিয়ে ভারতের এই আগাম সতর্কতা বলে জানা যায়।