শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২৬   চৈত্র ২৬ ১৪৩২   ২২ শাওয়াল ১৪৪৭

জামুকা বিল পাস

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১১:৪৬ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

এতে জামায়াতের পক্ষ থেকে আপত্তি জানিয়ে বক্তব্য তুললেও তবে তাদের জোটসঙ্গী এনসিপিপক্ষ থেকে এই বিলের ওপর কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা বিলের ওপর আপত্তি জানিয়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও বিলের কোন ধারায় তিনি সংশোধন চান, তা উল্লেখ করেননি। ফলে স্পিকার তার আপত্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে ভোট দেননি।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা এ অধ্যাদেশে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীর’ সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। সেখানে পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম রাখা হয়েছিল।

বিলের মূল আপত্তির জায়গা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, স্বাধীনতার পরের সরকার, জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়ার সরকার কেউই আইনের সংজ্ঞায় রাজনৈতিক দলগুলোর নাম এভাবে আনেনি। তার ভাষায়, বিষয়টি প্রথমে শেখ হাসিনার আমলে এসেছে, পরে অন্তর্বর্তী সরকারও ‘সামান্য পরিবর্তনসহ’ সেই ধারাবাহিকতা রেখেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেন, বর্তমান উপস্থাপনায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম আনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আল্লাহ ভালো জানেন, ’৭১ সালের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী, আমরা বাকিরা আংশিক সাক্ষী।

শফিকুর  বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি সুস্থ ধারায় চলুক, প্রতিটি রাজনৈতিক দল জনগণের প্রতি দায়দরদ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করুক। আমরা আর এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না।

স্পিকার পরে বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা কার্যত নির্দিষ্ট কোনো আপত্তি তোলেননি, বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর তিনি মন্ত্রীকে বিলটি উত্থাপনের আহ্বান জানান।