মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২৬   চৈত্র ২৩ ১৪৩২   ১৯ শাওয়াল ১৪৪৭

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিলের খবরে মুখ খুললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ১২:৩৭ এএম, ৭ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার

ইহুদিবেদ্বেষী ও উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে ভিসা বাতিলের খবরে মুখ খুলেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ। তবে ভিসা বাতিল হওয়ার খবর গণমাধ্যমে যেভাবে প্রচার করেছে, সেরকম কিছু অস্ট্রেলিয়ার সরকারের কাছ থেকে পাওয়া চিঠিতে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

সোমবার (৬ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে এই দাবি করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

পোস্টে তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলাম আমি। এরপর একটি জরুরি কাজে গত শনিবার দেশে ফিরে এসে তাতে মনযোগ দিয়েছি। আজ সকালে জানতে পারলাম, আমার ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরও সিডনিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, ‘ভিসাসংক্রান্ত লেটারটা ছিল অনেকটা ফরমাল। সেখানে উল্লেখ ছিল—আবেদনকারী যে উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া এসেছিলেন, তা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করে তিনি ফিরে গেছেন। তাই ভিসার উদ্দেশ্য আর অবশিষ্ট নেই। বিভিন্ন মিডিয়ায় বিষয়টা যেভাবে প্রচারিত হয়েছে, সেরকম কিছু আমি লেটারে দেখতে পাইনি।’

তবে অষ্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিরোধী রাজনীতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করেন এই ধর্মীয় আলোচক। তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষী আমাদের কিছু বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ এবং কিছু বক্তব্যের বিকৃত অনুবাদ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করেছে। তার দ্বারা তারা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন।

অভিযোগ আমলে নেওয়ার আগে করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করি, যে কোনো অভিযোগ আমলে নেওয়ার পূর্বে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই এবং ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে গত জানুয়ারি মাসে ইসলামোফোবিক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে সামি ইয়াহুদ নামে একজন ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল করেছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। বিষয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয় এবং বিষয়টা নিয়ে স্থানীয়ভাবে চাপ তৈরি হয় বলে জানান তিনি।

শায়খ আহমাদুল্লাহ দাবি করেন, একজন ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সারকে এভাবে বাধা দেওয়া প্রবল শক্তিশালী ইসরায়েলি লবি মোটেই ভালোভাবে নেয়নি। সে ঘটনারই বিপরীত ক্রিয়া হিসেবে আমার বিরুদ্ধে এই প্রচারণা কি না, তা আমি নিশ্চিত নই। কোনো ধর্ম, জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতি আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ নেই। বরং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি যেকোনো বিচ্ছিন্ন অন্যায় আচরণেরও আমরা বিরোধিতা করি।

এর আগে, সিডনিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বাংলাদেশি এই ইসলামিক বক্তার ভিসা বাতিলের খবর উঠে আসে। সংবাদমাধ্যমটির তথ্যমতে, অস্ট্রেলিয়ায় সফররত অবস্থায় গত শনিবার সিডনিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল শায়খ আহমাদুল্লাহর। কিন্তু তার আগেই পুরোনো কিছু ভিডিও বক্তব্য প্রকাশ্যে আসায় বিতর্ক শুরু হয়। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিশ্বের সব অস্থিরতার মূলে রয়েছে ইহুদি ষড়যন্ত্র। তারা ‍খুবই জঘন্য, পৃথিবীর যত অশান্তি, তার নেপথ্য কারিগর ইহুদিরা।’

তারও আগে, গত ৩১ মার্চ বাংলাদেশের আরেক জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। হিটলারের প্রশংসা করে ইহুদিদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয় দেশটি। ভিসা বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছিলেন তিনি।