ফ্রি টিকেট, হোটেল ও ৫ ভাগ কমিশন দেবে গ্লোবাল ট্যুরস
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৭:৫৩ এএম, ৪ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার
মধ্যপ্রাচ্য চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ঢাকার রুটে ৪ টি এয়ারলাইন্স কে নিরাপদ বলে মনে করে কমিউনিটির অন্যতম বিশ্বস্ত ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস। সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ বিমান, টার্কিস এয়ার লাইন্স, এমিরেটস এয়ারলাইন্স ও ক্যাথে প্যাসেফিক। গ্লোবাল ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস’র অনলাইন টিকেট কিনলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন লাইনে ফ্রি টিকেট, এক রাত ঢাকায় ফ্রি হোটেল ও শতকরা ৫ ভাগ ডিসকাউন্ট দেবে এই ট্রাভেল এজেন্ট।
গত ৩০ মার্চ জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এই কথা বলা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন, সিইও মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বশির, আন নুর ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল মুফতি ইসমাইল, গ্লোবাল ট্যুরসের ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান রায়হান ও এরশাদ রাহি তুহিন প্রমুখ।
বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সিইও সামসুদ্দিন বশির। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। বেশকিছু পরিচিত ও সহজ রুটে বিমান চলাচল ঝুঁকিতে পড়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের সহ অন্যান্য দেশের বিশেষ করে এশিয়ার বিমান যাত্রীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই দেখাছো এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গিয়ে আটকা পড়েছেন কারণ তাদের এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতেও বেশ কিছু এয়ারলাইন্স নিরাপদে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এর মধ্যে কানাডা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, যুক্তরাষ্ট্র থেকে টার্কিস এয়ারলাইন্স-এমিরেটস এয়ারলাইন্স-ক্যাথে প্যাসিফিক। যুদ্ধের কারণ সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ রূট পরিহার করে এসব এয়ারলাইন্স নিরাপদ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে বিমান পরিবহন খাতে ভ্রমণে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। রুট পরিবর্তন, ফ্লাইট বিলম্ব, নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং ট্রানজিট জটিলতা এখন ভ্রমণকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় ভ্রমণ নিরাপত্তা, ট্রানজিট ঝুঁকি, ভিসা প্রক্রিয়া এবং এয়ারলাইন্সভিত্তিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েই ভ্রমণ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় যাত্রীরা বেশি ভ্রমণ করেন। এ বিবেচনায় টার্কিস এয়ারলাইন্স, আমিরাত এয়ারলাইন্স, বাংলাদেশ বিমান (কানাডা হয়ে), সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ও ক্যাথেপ্যাসেফিক নিয়মিত ফ্লাই করছে। কোন অসুবিধা হচ্ছে না। আপাতত বন্ধ রয়েছে কুয়েত, কাতার এয়ারলাইন্স। কাতার এয়ারলাইন্স জানিয়েছে তারা আগামী ২ এপ্রিল থেকে ফ্লাইট চালুর কথা রয়েছে।
বশির জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ভ্রমণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমান হতে পারে প্রথম পছন্দ। কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকায় সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। অন্য এয়ারলাইন্সের থেকে বিমানের ভাড়াও অনেক কম। যে কেউ নিউইয়র্ক লাগোর্ডিয়া থেকে প্রায় ১০০ ডলারে টরেন্টা গিয়ে সেখান থেকে বিমানের ফ্লাইট ধরতে পারেন। এতে অন্য যে কোন বিমানের চেয়ে গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার খরচ কম পড়বে। আড়াই হাজার ডলারে নিচেই বিজসেন ক্লাসে ভ্রমণ করা যায়, যেখানে অন্য এয়ারলাইন্সের বিজসেন ক্লাস প্রায় সাড়ে সাড় থেকে ৫ হাজার ডলার। এসব ফ্লাইট ইস্তাম্বুল ও রোম হয়ে ঢাকায় পৌঁছায়। টরেন্টোর কানেটিং ফ্লাইটের টিকেটও স্বল্পমূল্যে গ্লোবাল ট্যুরস থেকে কাটা যাবে।
তিনি জানান, টার্কিস এয়ারলাইন্স নিউইয়র্কের জেএফকে, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডালেসসহ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এয়ারপোর্টগুলো থেকে প্রতিদিন ১৪টি ফ্লাইট নিয়মিতভাবে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। জেএফকে থেকেই দিনে দুটি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এই এয়ারলাইন্সের একটি বড় আকর্ষণ হলো উদার ব্যাগেজ সুবিধা। প্রতি যাত্রী ৫০ পাউন্ড ওজনের ৩টি লাগেজ বহনের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া স্টপওভার ইস্তাম্বুল সার্ভিসের আওতায় ইকোনমি ক্লাসে ২ রাত এবং বিজনেস ক্লাসে ৩ রাত পর্যন্ত ইস্তাম্বুলে বিনামূল্যে হোটেল থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তুলছে।
এছাড়া সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এবং ক্যাথে প্যাসিফিক-ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এসব এয়ারলাইনস যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ, উন্নত সেবা এবং প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া নিশ্চিত করছে।
বশির আরও বলেন, ভ্রমণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দিতে গ্লোবাল ট্যুরসের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মাইবেস্টফ্লাই ডট কম বিশেষ অফার ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক ওয়ান-ওয়ে টিকিটে ১০ ডলার এবং রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটে ২০ ডলার ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য থাকছে ঢাকা এয়ারপোর্টে মিট অ্যান্ড গ্রিট সার্ভিস, নির্দিষ্ট শর্তে ফ্রি ডোমেস্টিক টিকিট এবং প্রয়োজনে ঢাকায় এক রাতের ফ্রি হোটেলে সুবিধা। প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াত ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্টের মাধ্যমে যাত্রীদের যেকোনো প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি মানি ট্রান্সফার, ভিসা সহায়তা, পাসপোর্ট নবায়ন, নোটারি পাবলিক, এবং হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ নানা সেবা প্রদান করছে। ঢাকায়ও গ্লোবাল ট্যুরস ও ট্রাভেলের অফিস রয়েছে।
