শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৬   চৈত্র ২১ ১৪৩২   ১৬ শাওয়াল ১৪৪৭

নতুন নামে করোনার ‘সিকাডা’ ভ্যারিয়েন্ট

আজকাল রিপোর্ট -

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৭:৪৮ এএম, ৪ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার


 

 
বিশ্বজুড়ে আবারও আলোচনায় এসেছে ঈঙঠওউ-১৯। নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে উচ্চমাত্রায় মিউটেশনযুক্ত বিএ.৩.২ ভ্যারিয়েন্ট, যা ‘সিকাডা’ নামেও পরিচিত। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধীরে ধীরে এর সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্টের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্পাইক প্রোটিনে অনেকগুলো মিউটেশন। এর ফলে ভাইরাসটি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাছে কিছুটা ভিন্নভাবে আচরণ করতে পারে, যা পূর্বের সংক্রমণ বা ভ্যাকসিন থেকে পাওয়া সুরক্ষা আংশিকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে এই ভ্যারিয়েন্ট আগেরগুলোর তুলনায় বেশি মারাত্মক। গবেষকদের মতে, দেখতে উদ্বেগজনক হলেও এর বাস্তব প্রভাব এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।

২০২৫ সালের শেষ দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে ‘পর্যবেক্ষণাধীন ভ্যারিয়েন্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। বর্তমানে অন্তত ২৩টি দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে ২৫টি অঙ্গরাজ্যে বিএ.৩.২ পাওয়া গেছে। তবে এটি এখনো প্রধান ভ্যারিয়েন্টে পরিণত হয়নি এবং বড় ধরনের সংক্রমণ ঢেউও তৈরি করতে পারেনি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভাইরাসের মিউটেশন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাই নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসা অস্বাভাবিক নয়। তবে বিদ্যমান ভ্যাকসিন এখনো গুরুতর অসুস্থতা প্রতিরোধে কার্যকর রয়েছে।

সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ হিসেবে বলা হচ্ছে-লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করা, অসুস্থ অবস্থায় ঘরে থাকা এবং ভিড়পূর্ণ স্থানে মাস্ক ব্যবহার করা।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, ‘সিকাডা’ ভ্যারিয়েন্ট এখনো বড় হুমকি না হলেও পরিস্থিতি নজরে রাখা জরুরি এবং সতর্কতা অবলম্বনের বিকল্প নেই।