দৃশ্যমান হচ্ছে আওয়ামী লীগ
আজকাল প্রতিনিধি
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:০১ এএম, ২৮ মার্চ ২০২৬ শনিবার
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কিছুটা দৃশ্যমান হচ্ছে আওয়ামী লীগ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। তবে দলটির কর্মকান্ড নিষিদ্ধ থাকায় পুলিশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আটক করছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কর্মকান্ড নিষিদ্ধি করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অর্ন্তবর্তি সরকার। তারপর নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করলে নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য হয় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া এই রাজনৈতিক দল।
২০২৪ সালের গণঅভ্যূত্থানের পর দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে কিংবা নিস্ক্রিয় থাকার পর ২০২৬ সালের এই সময়ে এসে আওয়ামী লীগের কিছু তৎপরতা সত্যিই দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি ও চলতি মার্চ মাসে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দলটিকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ দৃশ্যমান হওয়ার পেছনে প্রধানত তিনটি দিক কাজ করছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন আদালতে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন স্থানীয় ও মাঝারি সারির নেতা জামিন পেতে শুরু করেছেন। গত ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল, নারায়নগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও কক্সবাজারসহ বেশ কয়েকটি জেলায় আদালত থেকে নেতাদের জামিন পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই আইনি বিজয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সারাদেশে দলটির প্রায় ৭২টি কার্যালয় নতুন করে খোলার খবর পাওয়া গেছে। অধিকাংশই ঘরোয়াভাবে এবং ছোট পরিসরে খোলা হয়। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং এলাকাভিত্তিক ছোট ছোট জটলার মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি খুলনায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলা নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো।
গত ফেব্রুয়ারি মানে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরাসরি অংশ নিতে না পারলেও পর্দার আড়াল থেকে তারা একটি বড় প্রভাবক হিসাবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের একটি বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। এই ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার জন্য বড় দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের অদৃশ্য প্রতিযোগিতা দেখা গেছে। যদিও সরকার এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বারবার বলছেন যে, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ আছে এবং থাকবে। তবুও দলটির নেতাদের হাঠাৎ হঠাৎ প্রকাশ্যে আসা বা বিবৃতি দেওয়াকে সরকার খুব একটা হালকাভাবে নিচ্ছে না।
বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিভিন্ন বিবৃতি ও আন্তর্জাতিক লবিং দলটিকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে সব দলের অংশগ্রহণে অর্ন্তভুক্তিমূলক রাজনীতির যে কথা বারবার আসছে তা আওয়ামী লীগকে কিছুটা হলেও স্পেস দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ এখন সরাসরি রাজপথে বড় মিছিল বা সমাবেশ করার অবস্থায় না থাকলেও জামিনে মুক্তি, আইনি লড়াই এবং নির্বাচনী সমীকরণের মাধ্যমে তারা রাজনীতিতে কিছুটা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। গত একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংবাদিকদের একটি গ্রুপ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে এবং জয় বাংলা শ্লোগান দিয়েছে। তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংবাদিক ইউনিয়ন অফিসের সামনেও শ্লোগান দিয়েছে। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী। পুলিশ তাদেরকে আটক করেছে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়েও অনেকে আটক হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঝটিকা মিছিল করেছে।
যদিও গত নির্বাচনের আগে বিএনপি অনেকটা নমনীয় আচরণ করেছে আওয়ামী লীগের প্রতি। তবে এখন তাদের কোনও স্পেস দিচ্ছে না। বিশেষ করে উপজেলা ও পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামে মামলা দায়ের কিংবা পুরনো মামলা সক্রিয় রাখা হচ্ছে। তাছাড়া, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দৃশ্যমানতা কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্রদের নেতৃত্বে পরিচালিক এক আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন। ওই বছরের আগস্টে তিনি ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অর্ন্তবর্তি সরকার শেখ হাসিনার বিচারের উদ্যোগ নেয়।
