জাতিসংঘের সভাপতি পদপ্রার্থী ড. খলিলের শ্যাটল ডিপ্লোমেসি
হাসান মাহমুদ
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০৮:৩২ পিএম, ২০ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার
মধ্যপ্রাচ্যে তুমুল যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অনেকটা ঝুঁিক নিয়েই তুরস্কে যাত্রা বিরতি দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এখন নিউইয়র্কে। ইরানের হামলার ফলে বিমান পরিবহনের ‘হাব’ হিসেবে খ্যাত দুবাই এখন বন্ধ। তিনি গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১ তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। প্রার্থী হয়েছেন ড. খলিলুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শে ড. খলিলুর রহমান লবিং করতে এখন নিউইয়র্কে ব্যস্ত রয়েছেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ি মিশনের একজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, ‘ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে ৪০ বছর পর এই প্রথম বাংলাদেশ ইউএনজিএ’তে সভাপতিত্ব করার সুযোগ পাবে। এটি একটি দেশের জন্য অনেক গৌরবের। এর আগে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ১৯৮৬ সালে ৪১ তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন’। ইউএনজিএ ৮১ তম অধিবেশনের সভাপতির প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এই পদের জন্য মনোনীত করেছেন। সারা বিশ্বের সরকার প্রধানরা জাতিসংঘ ৮১তম ওই অধিবেশনে যোগ দিতে উপস্থিত থাকবেন। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন বলে জানা যায়। ঢাকা থেকে তার সফরসঙ্গি কারা কারা হবেন তার একটি তালিকা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে শেখ হাসিনা বা ড. ইউনূস সরকারের চেয়ে এবার তারেক রহমানের টিম অনেক ছোট হবে বলে আভাস মিলেছে। আগামী ২ জুন ২০২৬ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে ইউএনজি’র সভাপতি নির্বাচনের দিন ধার্য আছে। এবার ফিলিস্তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশ এখন সাইপ্রাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুর বাংলাদেশে গত ৪ মার্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠক করেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবার পর তিনিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের কোন কর্মকর্তা ঢাকা সফর করেছেন। তবে তার আগে পল কাপুর দিল্লীতে বৈঠক শেষ করে ঢাকায় যান।
নিউইয়র্কে আসার পথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল আঙ্কারায় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সফরকালে ড. রহমান বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জোরদার করতে কূটনীতিক ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আগামী কয়েকদিন সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচারের অংশ হিসাবে তাঁর বেশ কয়েকটি বৈঠক ও ব্যস্ততার কথা রয়েছে। নিউইয়র্কে আসার পর ইউএনসিটিএডি-র মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের জন্য সভাপতির নির্বাচন ২ জুন ইউএনএইচকিউ-এর সাধারণ পরিষদ হলে কার্যপ্রণালী বিধি ৩০-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে অনুষ্ঠিত হবে।
মিসেস গ্রিনস্প্যান, যিনি পূর্বে কোস্টারিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তিনি জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেল পদের প্রার্থী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল জাতিসংঘের ৮১ তম অধিবেশনের সভাপতির প্রার্থী। দুই কর্মকর্তা তাঁদের নিজ নিজ প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ তার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। ওআইসির বৈঠকের পর ওআইসির দেশগুলো বাংলাদেশের প্রার্থিতার জন্য পূর্ণ ও দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য স্বীকার করেছেন যে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ তার প্রার্থী পরিবর্তন করেছে, যখন সাইপ্রাস অনেক দীর্ঘ সময় ধরে প্রচারণা চালাচ্ছিল, যা সময়কে ঢাকার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ করে তুলেছিল। ওআইসি-র সদস্য দেশগুলো শুধু বাংলাদেশকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
