৬০ লাখ প্রবাসী পরিবারে ঈদ কাটবে উৎকণ্ঠায়
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:১৮ এএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার
২৮ রমজান ঈদ করতে দেশে আসার কথা ছিল কুমিল্লার লালমাই উপজেলার নূরপুরের বাসিন্দা ওমান প্রবাসী জাকির হোসেনের। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বাতিল হয় ফ্লাইট। ফিরতে পারছেন না দেশে। জাকিরের পরিবারের ঈদের আনন্দ এখন আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। জাকির হোসেনের বড় ভাই ইমন হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঈদে ভাই বাড়ি আসতে পারবে না, এটাই আমাদের জন্য কষ্টের। একই সঙ্গে ওর নিরাপত্তা নিয়েও আমরা চিন্তায় আছি। আল্লাহ যেন ভাইকে নিরাপদে রাখেন সেই দোয়া করি।’
কুমিল্লা : বরুড়া উপজেলার লগ্নসার গ্রামের কামাল হোসেন। ধারদেনা করে সৌদি আরব গিয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কাজ করেন লুকিয়ে লুকিয়ে। তিনি যে এলাকায় থাকেন সেখানে হামলা হয়েছে। এতে তারা বের হতে পারছেন না, কাজে যেতে পারছেন না। এদিকে গ্রামে তার বৃদ্ধ মা-বাবা আছেন উৎকণ্ঠায়। কখন ছেলে না জানি দুর্ঘটনায় পড়েন। কখন খারাপ খবর আসে! একই গ্রামের খায়রুল ইসলাম থাকেন কাতারে। তার কর্মস্থলের পাশে বোমা হামলা হয়েছে। তিনি অর্ধেক কাজ রেখে বাসায় ফিরে এসেছেন। একই উপজেলার দোগই গ্রামের হেলাল উদ্দিন থাকেন সৌদি আরবে। তার স্বজনরাও আছেন আতঙ্কে। সৌদি আরব প্রবাসী কামাল হোসেনের বাবা জামাল হোসেন বলেন, ছেলে টেনশন করছে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কাজ পেতে সমস্যা হবে। এদিকে আমরা চিন্তায় আছি তাকে নিয়ে। কোথায় কখন না আবার কোন সমস্যায় পড়ে। ফোন বেজে উঠলে ছুটে যাই, তার খারাপ কোনো খবর এল নাকি? লাকসামের মনপাল গ্রামের আবদুর রশিদ থাকেন বাহারাইন, জাহাঙ্গীর আলম থাকেন কাতারে। তাদের স্বজনদেরও দিন কাটছে উৎকণ্ঠায়।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, আমার পরিবারের একাধিক সদস্য মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আছেন। গ্রামের বাড়িতে তাদের মা-বাবা , ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীর প্রতিটি ঘণ্টা কাটছে অজানা আতঙ্কে। বেলায়েত হোসেন জানান, প্রতি বছর ঈদের সময় মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরা বাড়িতে প্রচুর টাকা-পয়সা পাঠাতেন। এবার হামলার ভয়ে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। বাড়িতে টাকাও পাঠাতে পারেননি অনেকে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রায় ২০ লাখ প্রবাসী কর্মরত আছেন।
মুন্সিগঞ্জ : ‘আমাগো কি আর ঈদ আনন্দ আছে, ঠিকমতো ঘুম নাই, খাওয়া নাই। আমার ছেলে আছে আগুনের মধ্যে, পোলার লেইগা দিনরাত দোয়া করি। কথাগুলো বলছিলেন মুন্সিগঞ্জ কাতার প্রবাসী সবুজের মা। ঠিক এমনই হাহাকার মুন্সিগঞ্জের শত শত প্রবাসী পরিবারে। সদর উপজেলার এক প্রবাসী আলাউদ্দিনের মা বলেন, ‘আমার ছেলে কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছে। এখন যুদ্ধের খবর শুনে সারাক্ষণ চিন্তায় থাকি। ঈদ সামনে, কিন্তু মনে কোনো আনন্দ নেই।’ গজারিয়া উপজেলার এক প্রবাসীর মা সাজেদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কয়েক বছর কুয়েত আছে। টিভিতে যুদ্ধের খবর শুনে খুব ভয় লাগে। ঈদ সামনে, নাতি-নাতনিদের কিছুই কিনে দিইনি।’
নোয়াখালী : নোয়াখালী জেলা সদর মাইজদীসহ জেলার বিভিন্ন উপজিলায় হাজার হাজার মানুষ সৌদি আরব, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জীবন-জীবিকার তাগিদে চাকরিতে কর্মরত রয়েছে। যুদ্ধ ও বোমা হামলার কারণে আতঙ্কিত ও দূর চিন্তায় আছেন পরিবার ও স্বজনরা।
