মঙ্গলবার   ১০ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৫ ১৪৩২   ২১ রমজান ১৪৪৭

ধ্বংসস্তুপের চিত্র প্রকাশ করলেই ধরে নিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনারা

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৫৮ এএম, ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার

‘ইরানে গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ১০ম দিনে গড়িয়েছে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে তেল আবিবসহ উগ্র ইহুদিবাদী অবৈধ ভূখণ্ডটিতে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে তেহরান। 


তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তার তেমন কিছুই প্রকাশ হচ্ছে না বলে ধারণা সচেতন মহলের। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, ভয়ঙ্কর ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউটের’ (তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা) তথ্য।

ইসরাইলের দখল করা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন আলজাজিরার রিপোর্টার নুর ওদেহ।

তিনি জানান, এই পুরো যুদ্ধজুড়ে—আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আগে কখনও এমন কিছু দেখিনি—সামরিক সেন্সর কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ইরান বা হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেটগুলো ঠিক কোথায় পড়ছে এবং কতগুলো ছোড়া হয়েছে, সে সম্পর্কিত তথ্যের ওপর তারা মূলত একটি সংবাদ ব্ল্যাকআউট জারি করেছে। যেসব সাংবাদিক অন-এয়ারে বা সরাসরি সম্প্রচারে 'প্রয়োজনের চেয়ে বেশি' তথ্য বলছেন বলে মনে করা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ তাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে আমরা জানতে পেরেছি যে, আজ সোমবার (৯ মার্চ) ইসরাইলের তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী একটি এলাকায় দুজন নিহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে আমরা জানতে পেরেছি, ইরান যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে তার কয়েকটিতে 'ক্লাস্টার ওয়ারেড' বা গুচ্ছ বোমা রয়েছে। এর অর্থ হলো, এগুলো আঘাত হানার সময় খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায় এবং অনেক বড় ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।

লক্ষ্যবস্তু হওয়া এলাকাগুলোতে কোনো অবিস্ফোরিত গোলা রয়ে গেছে কিনা তা নিশ্চিত করতে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোর দীর্ঘ সময় লাগছে। 

এসব কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা প্রকাশ করছে না কর্তৃপক্ষ- ধারণা সচেতন মহলের।

সোমবার ইসরাইলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছে বলে প্রকাশ করেছে তেল আবিব। তবে নুর ওদেহর বক্তব্য থেকে জানা যায়, এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছে।