রোববার   ০৮ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৩ ১৪৩২   ১৯ রমজান ১৪৪৭

স্ক্যামার বাংলাদেশি নিয়াত গ্রেফতার:কমিউনিটিতে আতংক

আজকাল রিপোর্ট -

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:১১ এএম, ৮ মার্চ ২০২৬ রোববার


 
 
করোনা মহামারির সময় শুরু হওয়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি কর্তৃপক্ষের ভূয়া পরিচয়ে ফোন করে সহজ-সরল আমেরিকানদের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়া চক্রের অন্যতম সদস্য হিসেবে নিউইয়র্কের বাফেলো সিটিতে বসবাসরত চাঁদপুরের বাসিন্দা নিয়ামত উল্লাহকে (৩১)  গ্রেফতার করা হয়েছে।গ্রেফতারের ঘটনাটি ঘটেছে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার আপশোরে। সেখানকার পুলিশ অফিসার মাইকেল কোফম্যান গ্রেফতার অভিযানের সমন্বয় করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের তদন্ত কর্মকর্তাদের সহযোগিতায়।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রচারিত ভূয়া পরিচয়ের টেলিফোনকারি একজন বাংলাদেশিকে গ্রেফতারের চাঞ্চল্যকর তথ্যটি ২৭ ফেব্রুয়ারি গোটা কমিউনিটিকে হতভম্ব এবং ভীত-সন্ত্রস্ত করেছে। কারণ, গত ৬ বছরের অধিক সময় ধরেই এই জালিয়াত চক্রের ব্যাপারে তেমন কোনো হদিস উদঘাটিত না হওয়ায় এফবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর ধারণা ছিল যে, সংঘবদ্ধ এই চক্রের (স্ক্যামার) সদস্যরা ভিন্ন কোনো দেশ থেকে এ রকম অপকান্ড পরিচালনা করছে। আর এই প্রতারক চক্রের ভিকটিমের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছেন। সর্বস্ব হারিয়ে তারা নাজুক পরিস্থিতিতে পুলিশ স্টেশন, ব্যাংকের দরজায় ধরনা দিচ্ছেন। প্রতারকেরা জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ জেনেও ব্যাংক কর্মকর্তারা অনেকের একাউন্টে সেই অর্থ ফিরিয়ে দিতে সীমাহীন কার্পন্য করছেন। এক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোর আচরণও রহস্যজনক বলে অনেকে অভিযোগ করছেন।
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এবং আপশোর কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানায়, ২০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি ব্যাংক থেকে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে শেরিফ মাইক কোফম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন, নিয়ামত উল্লাহসহ প্রতারক চক্র নিজেদের ‘নর্টন অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার’র প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ভিকটিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রতারকরা দাবি করে, ভিকটিম অনলাইনে অনুপযুক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন। যদিও তা মিথ্যা ও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছিল।

বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি নিয়ন্ত্রিত অর্থ হস্তান্তর পরিকল্পনা করে। নির্ধারিত স্থানে নজরদারি বসানো হয় এবং সন্দেহভাজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। কথা অনুযায়ী ২০ ফেব্রুয়ারি স্ক্যামার সেখানে না এসে সময় পরিবর্তন করে সন্দেহভাজনরা পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় অর্থ গ্রহণের কথা জানায়। সে অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অর্থ সংগ্রহ করতে এলে ওৎ পেতে থাকা অফিসারেরা তাকে আটক করেন।
এ সময় নিয়ামত উল্লাহর ব্যবহৃত গাড়ি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ, স্বর্ণমুদ্রা এবং একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্রেফতারের সময় কোন বাক-বিতন্ডা বা বাধা দেয়নি নিয়ামত উল্লাহ। তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাকে টাইগার্ট ভ্যালি আঞ্চলিক কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাননীয় আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। সাড়ে ৬ লাখ ডলার নগদ বন্ড প্রদান করলে তাকে মুক্তির নির্দেশ থাকলেও ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ড প্রদানের তথ্য জানা যায়নি।
অপশুর কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর, এফবিআই এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সম্মিলিতভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।