সোমবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ১০ ১৪৩২   ০৬ রমজান ১৪৪৭

হত্যার শিকার হলে কীভাবে চলবে ইরান, নির্দেশনা দিলেন খামেনি

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:৪৮ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার

পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরানে যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে একাধিক বিকল্পও রয়েছে। তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে তাহলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার ছেলে মোজতবা খামেনির হত্যার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্ভাব্য মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলায় নিহত হলে কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে তা নিয়ে নিজেই নির্দেশনা দিয়েছেন। নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরাধিকার ও জরুরি কমান্ড চেইনসহ একাধিক স্তরের বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত মাসে দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে খামেনি তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার আলি লাজরানিকে কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নিয়ে আসেন। কার্যত তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বের শীর্ষে বসানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা, বিপ্লবী গার্ডের সদস্য এবং সাবেক কূটনীতিকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লারিজানি বিক্ষোভ দমন তদারকি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংবেদনশীল পারমাণবিক কূটনীতি পরিচালনা এবং রাশিয়া, কাতার ও ওমানসহ মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় যুদ্ধকালীন পরিকল্পনাও তিনি দেখভাল করছেন।

টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, খামেনি সামরিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য একাধিক স্তরের উত্তরসূরি নির্ধারণ করেছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বা তিনি নিহত হলে যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য একটি ঘনিষ্ঠ অভ্যন্তরীণ চক্রকে ক্ষমতা অর্পণ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও লারিজানিকে সর্বোচ্চ নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তবু তাকে খামেনির অন্যতম বিশ্বস্ত সংকট-পরিচালক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরান তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। এছাড়া ইরাক সীমান্ত ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। এমনকি সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতিতে সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে। যেকোনো হামলার জবাব শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খামেনি।