মন্ত্রীদের শপথ বর্জন জামায়াতের ভুল সংস্কৃতি
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:০৪ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার
জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক
বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী ও দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে ওই শপথের কয়েক ঘণ্টা আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।
কিন্তু সংসদেরই দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংসদ নেতা ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন মি. রহমান ও তার জোট।
এটিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বাংলাদেশের চিরাচরিত রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে সরকার-বিরোধী দলের পরস্পরকে 'বর্জন' বা 'বয়কটের' যে রাজনীতি তারই ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
আবার কেউ বলছেন, এ ঘটনায় ত্রয়োদশ সংসদের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা স্বস্তিকর হয়নি। তবে বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সামনে আসবে এবং তখন দেখার বিষয় হবে সেটি তারা কতটা কাজে লাগাতে পারে।
যদিও জাতীয় সংসদের উপনেতা মনোনীত হওয়া জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ বিএনপি নেয়নি বলেই প্রতিবাদ হিসেবে তারা শপথ অনুষ্ঠানে যাননি।
"এটি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ, একে পুরনো সংস্কৃতি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দলই হবো," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার রাতেই এক বিবৃতিতে জামায়াতের আমির ও বিরোধিতা দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, "গণতন্ত্র কোনো একটি দিন বা একটি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না; বরং এটি একটি দীর্ঘ যাত্রা। আমরা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে সেই যাত্রা অব্যাহত রাখব ইনশাআল্লাহ"।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের স্বাধীণতা ঘোষণাকে স্বাগত জানায়নি জামায়াত। বরং এর বিরোধিতা করে স্বাধীণতা বিরোধী রাজাকার আলশামস বাহিনী গড়ে তুলেছিল। তার মাশুল তাদের ৫৪ বছর দিতে হয়েছে। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর একটি নির্বাচন হলো। নতুন সরকোরের শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করে জামায়াত পূরণো পথেই হাঁটলো। ভুলের সংস্কৃতিকেই তারা বেছে নিল।
