হাসিনার ৩ আত্মীয় তারেকের আস্থায়
আজকাল রিপোর্ট -
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:৫৭ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ভারতে আশ্রীত। তার দল আওয়ামীলীগের সিংহভাগ নেতা সেখানে পলাতক কিংবা আশ্রয়ে রয়েছেন। ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী পরিবার তথা শেখ হাসিনার আত্মীয়স্বজনদের ছিল জয়জয়াকার। শেখ পরিবারের দাপটে প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র ছিল দাপট। জাতীয় সংসদেই ছিল শেখ পরিবারের ২৭ জন এমপি।
৫ আগষ্ট ২০২৪ হাসিনা রেজিমের পতনের পর পুরো সংসদ ও মন্ত্রীসভা নাই হয়ে যায়। শেখ হাসিনা নিজে ভারতে আশ্রয় নেন। ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোটে প্রার্থী হন শেখ হাসিনা পরিবারের ২ জন আত্মীয়। অবশ্য তারা গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ছিলেন। রাজপথে ছিলেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে। এই জোটের অন্যতম ছিলেন ব্যারিষ্টার আন্দালিপ পার্থ (জেপি)। তিনি শেখ হেলালের মেয়ের জামাতা। শেখ হেলাল ও শেখ সেলিম হচ্ছেন শেখ হাসিনার চাচাতো ও ফুফাতো ভাই। পার্থের মা শেখ সেলিমের আপন বোন। এ দিকে থেকে মামা ভাগিনা। অন্যদিকে পার্থ শেখ সেলিমের ভাতিজী জামাই। উল্লেখ্য পার্থ সাবেক আওয়ামী লীগার ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র (জাতীয় পার্টি) নাজিউর রহমানে মঞ্জুর সন্তান। বিএনপির জোট থেকে এমপি (ভোলা সদর) হয়েছেন তিনি।
শেখ সেলিমের বড় ছেলে শেখ ফাহিম বিয়ে করেছেন ববি হাজ্জাজের বোনকে। তারা শালা দুলাভাই। ববি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাওলানা মমিনুল হককে হারিয়ে ঢাকা-১৩ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তারেকের মন্ত্রীসভায় তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। এদিক থেকে শেখ হাসিনার আত্মীয় ববি। ববির বাবা ধনকবুর মুসা বিন শমসের। এ ক্ষেত্রে মুসা হচ্ছেন হাসিনা ও সেলিমের বিয়াই।
বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য তারেকের মন্ত্রীসভায় খনিজ ও জ্বালানীমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি সিরাজগঞ্জ-২ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত এমপি। তার মেয়েকে বিয়ে করেছেন শেখ সেলিমের ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ নাঈম। এ বিচেনায় টুকু ও হাসিনা বিয়াই বিয়াইন।
দল-মত আলাদা হলেও ক্ষমতা, রাজনীতি আর সম্পর্ক-সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত সমীকরণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে।
