ডোপ টেস্ট পজিটিভ হলে সরকারি চাকরিতে অযোগ্য, বিধিমালা জারি
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ১২:২৪ এএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিয়োগে মাদকাসক্তি শনাক্তকরণ বা ‘ডোপ টেস্ট’ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। পরীক্ষায় ফল পজিটিভ এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এছাড়া চাকরিরত অবস্থায় কেউ মাদকাসক্ত হিসেবে শনাক্ত হলে তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সোমবার ‘জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা ২০২৬’ সংক্রান্ত এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বিধিমালা অনুযায়ী, মাদকাসক্ত শনাক্ত হওয়ার পর নির্ধারিত চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
ডোপ টেস্ট যেখানে প্রযোজ্য
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী কেবল সরকারি চাকরি নয়, বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ, যানবাহন চালনার লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেও ডোপ টেস্ট করা যাবে। এছাড়া বিদেশে যেতে ইচ্ছুক কর্মী এবং যাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের প্রাথমিক সন্দেহ বা অভিযোগ থাকবে, তাদের ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষা কার্যকর হবে। স্থলযানের পাশাপাশি নৌযান ও আকাশযান চালকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন
ডোপ টেস্ট কার্যক্রম তদারকিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সভাপতি করে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৯ সদস্যের এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছাড়াও সিআইডির ডিআইজি (ফরেনসিক), ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালকসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা থাকবেন।
পরীক্ষা ও তথ্যের গোপনীয়তা
নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে জালিয়াতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যার পরীক্ষা করা হবে, তাকে নির্দিষ্ট স্থানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে এবং তাঁর ছবি ও আঙুলের ছাপ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। গোপনীয়তা রক্ষায় নমুনার মোড়কে ব্যক্তির নাম-ঠিকানা বা পরিচয়সূচক কোনো তথ্য ব্যবহার করা যাবে না। কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কাউকে পরীক্ষার ফলাফল জানানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ল্যাবরেটরি ও ডেটাবেইজ সুরক্ষা
ল্যাবরেটরিতে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা সচল রাখতে হবে। ডোপ টেস্টের ফলাফল একটি সুরক্ষিত ডিজিটাল ডেটাবেইজে সংরক্ষণ করা হবে। কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে বা তথ্য ফাঁসে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এর আগে কিছু প্রতিষ্ঠানে বিচ্ছিন্নভাবে ডোপ টেস্ট চালু থাকলেও এখন গেজেট বা বিধিমালা হওয়ায় এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক হলো। এর ফলে সমাজ ও পেশাক্ষেত্রে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
