মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২৬   জ্যৈষ্ঠ ১৮ ১৪৩৩   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

যুক্তরাষ্ট্রে শিখ নেতা হত্যার কথা স্বীকার ভারতীয় নাগরিকের

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০১:০৯ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার

যুক্তরাষ্ট্রে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন নিখিল গুপ্ত নামে এক ভারতীয় নাগরিক। 

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কের একটি আদালতে ৫৪ বছর বয়সি এই ব্যক্তি স্বীকারোক্তি দেন যে তিনি ২০২৩ সালে পান্নুনকে হত্যার জন্য একজন পেশাদার খুনি বা ‘হিটম্যান’ ভাড়া করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। 

মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, এই হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে ভারত সরকারের একজন কর্মকর্তার যোগসূত্র রয়েছে, যদিও দিল্লি বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক সারাহ নেটবার্নের সামনে নিখিল গুপ্ত জানান, তিনি ২০২৩ সালে ভারত থেকে অনলাইনে ১৫ হাজার ডলার এক ব্যক্তিকে পাঠিয়েছিলেন, যাকে তিনি খুনি হিসেবে ভেবেছিলেন। তবে প্রকৃতপক্ষে ওই ব্যক্তিটি ছিল মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একজন গোপন সোর্স। 

এফবিআই’র নিউইয়র্ক অফিসের প্রধান জেমস সি বার্নাকল জানান, নিখিল গুপ্ত ভারতের একজন সরকারি কর্মকর্তার নির্দেশে এই হত্যার ছক সাজিয়েছিলেন। মার্কিন অভিযোগপত্রে ওই কর্মকর্তার নাম বিকাশ যাদব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে পলাতক।

২০২৩ সালের জুনে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ বিমানবন্দর থেকে নিখিল গুপ্তকে আটক করা হয় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। তিনি মূলত ‘ভাড়ায় হত্যা’ এবং ‘অর্থপাচার’ সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের অপরাধ স্বীকার করেছেন। আদালতের আইনি নির্দেশিকা অনুযায়ী তার ২০ থেকে ২৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ২৯ মে তার সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি দেখতে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আদালতের বাইরে বিপুল সংখ্যক শিখ সমর্থক জড়ো হন। তারা সেখানে ‘খালিস্তান’ এর সমর্থনে স্লোগান দেন। 

অন্যদিকে ভারতের তালিকায় ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত গুরপতবন্ত সিং পান্নুন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই ঘটনার পরেও তিনি তার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তিনি নিজেকে একজন মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে দাবি করে বলেন, পাঞ্জাবের স্বাধীনতার জন্য তিনি নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত। 

নিখিল গুপ্তকে তিনি এই ষড়যন্ত্রের একজন সামান্য ‘সৈনিক’ হিসেবে অভিহিত করে ভারত সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

সূত্র: আল জাজিরা