তারেক রহমানই হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০২:৩৯ এএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হচ্ছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির ইতিহাসে এমন ভূমিধ্বস বিজয় বিএনপি অতীতে পায়নি। ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সর্মথন নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার গঠন করতে হয়েছিল । ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সাথে ঐক্য করেই নির্বাচনে ক্ষমতায় রএসেছিল বিএনপি। তারেকের নেতৃত্বে গড়ে উঠলো নতুন রেকর্ড। এককভাবেই দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিণ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করছেন তারেক রহমান।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সর্বশেষ পাওয়া বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী ২১৩টি আসনে বিএনপি ও বিএনপি সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা ৭৭ টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে জামায়াত-৬৮, এনসিপি-৬, খেলাফত মজলিস-৩ টি আসনে জয়ী হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৮টি আসনে। এর বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীা বিজয়ী হয়েছেন। যদিও রাত পৌনে তিনটা পর্যন্ত ১০টি আসনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। রাজধানীর ঢাকার আসনগুলোর একটিরও ফলাফল তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচনে একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্তে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে বেশি ভোট পড়েছে। যদিও ভোটের হার এবং হ্যাঁ এর পক্ষে কতো শতাংশ ভোট পড়েছে ভোর রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময়ও জানাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হওয়ায় সরকার গঠনের নিরঙ্কুশ সমর্থন পেয়েছে বিএনপি। দলের এই বিশাল জয় উদযাপনে কোনো বিজয় মিছিল না করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের এই জয়ে আজ শুক্রবার সারাদেশে মসজিদে দোয়ার আহবান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কোনো ধরণের সমাবেশ না করার নির্দেশনা দেয়া হবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
নির্বাচনে ঢাকা ও বগুড়ার দুই আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার দুই আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপি আহবায়ক নাহিদ ইসলাম। জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতা খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পরাজিত হয়েছেন।
ঢাকার বেশির ভাগ আসনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি’র প্রার্থীরা । ২০টি আসনের মধ্যে প্রাপ্ত ফলে ১৪টিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। জামায়াত ও এনসিপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৬ জন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে ভালো করেছে বিএনপি। এ বিভাগের ১৭টির মধ্যে একটি ছাড়া সব আসনে জয়ী জয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা । এছাড়া দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে ভালো ফলাফল করেছে দলটি। ওদিকে উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা ভালো ফলাফল করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৯টি আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে সহিংসতামুক্ত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনের দিন সংঘাত সংঘর্ষের জেরে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যান ভোটাররা। নির্বাচন ঘিরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন ছিল। ভোটকেন্দ্রের বাইরে সেনাবাহিনী ও বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
ঢাকায় বিজয়ী হয়েছেন যারা: ঢাকা-১ এ বিএনপি’র আবু আশফাক, ঢাকা-২ এ বিএনপি’র আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ এ বিএনপি’র গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ এ বিএনপি তানভীর ইসলাম রবিন, ঢাকা-৫ এ জামায়াতের কামাল হোসেন , ঢাকা-৬ এ বিএনপি’র ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৭ এ বিএনপি’র , ঢাকা-৮ এ বিএনপি’র মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ এ বিএনপি’র হামিদুর রহমান, ঢাকা-১০ এ বিএনপি’র শেখ রবিউল ইসলাম রবি, ঢাকা-১১ এ এনসিপি’র নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১২তে জামায়াতের সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা-১৩ তে বিএনপি’র ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৪ তে জামায়াতের ব্যারিস্টার মীর আহমেদ কাসেম আরমান, ঢাকা-১৫ তে জামায়াতের ডা. শফিকুর রহমান, ঢাকা-১৬ তে জামায়াতের কর্নেল (অব) আবদুল বাতেন, ঢাকা-১৭তে বিএনপি’র তারেক রহমান, ঢাকা-১৮ তে বিএনপি’র এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা-১৯ এ বিএনপি’র দেওয়ান সালাহউদ্দিন ও ঢাকা-২০ এ বিএনপি’র তমিজ উদ্দিন।
বিজয়ী হয়েছেন যারা: সুনামগঞ্জ-১:বিএনপি’র কামরুজ্জমান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২: বিএনপি’র নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩: বিএনপি’র কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪: বিএনপি’র নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৫: বিএনপি’র কলিম উদ্দিন আহমেদ, সিলেট-১: বিএনপি’র খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-২: বিএনপি’র তাহসিনা রুশদী লুনা, সিলেট-৩: বিএনপি’র এমএ মালিক, সিলেট-৪: বিএনপি’র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫: খেলাফতের মুফতি আবুল হাসান, সিলেট-৬: বিএনপি’র এমরান আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১: বিএনপির নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু (৯৭,৫৩৪) বিজয়ী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ৭৯,৬১৯, মৌলভীবাজার-২: বিএনপি’র শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩: বিএনপি’র নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪: বিএনপির মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) (১,৬৯,৬০৮) বিজয়ী। নিকটতম প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী (৪৯,১৮৯), হবিগঞ্জ-১: বিএনপি’র ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২: বিএনপি’র আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান, হবিগঞ্জ-৩: বিএনপি’র জিকে গউছ, হবিগঞ্জ-৪: বিএনপি’র সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল, ঢাকা-২: বিএনপি’র আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-২০: বিএনপি’র তমিজ উদ্দিন, টাঙ্গাইল-৮: বিএনপি’র আহমেদ আযম খান, কিশোরগঞ্জ-১: বিএনপি’র মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২: বিএনপি’র এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ-৩: বিএনপি’র ড. এম ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৪: বিএনপি’র এডভোকেট ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৫: স্বতন্ত্র শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-৬: বিএনপির শরীফুল আলম (১,৮৫,৮৯৮) বিজয়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফতের আতাউল্লাহ আমিন (৪২,৫২৫), মানিকগঞ্জ-১: বিএনপি’র এস এ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২: বিএনপি’র মইনুল ইসলাম খান শান্ত, মানিকগঞ্জ-৩: বিএনপি’র আফরোজা খান রিতা, মুন্সীগঞ্জ-১: বিএনপি’র মো.আব্দুল্লাহ, মুন্সীগঞ্জ-২: বিএনপি’র আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩: বিএনপি’র মো.কামরুজ্জামান, গাজীপুর-৪: জামায়াতের সালাউদ্দিন আইউবী, গাজীপুর-৫: বিএনপি’র একেএম ফজলুল হক মিলন, নরসিংদী-১: বিএনপি’র খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-২: বিএনপি’র মঈন খান, নরসিংদী-৩: বিএনপি’র মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪: বিএনপি’র সরদার সাখাওয়াত, ফরিদপুর-২: বিএনপি’র শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু, ভোলা-১: বিজেপি’র ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বরিশাল-৫: বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি’র মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-৬: বিএনপি’র আবুল হোসেন খান, পিরোজপুর-৩: বিএনপি’র রুহুল আমিন দুলাল (৬৩,১৩২) বিজয়ী, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী ৩৫,৬২৩, জয়পুরহাট-১: জামায়াতের ফজলুর রহমান সাঈদ, জয়পুরহাট-২: বিএনপি’র আব্দুল বারী, নওগাঁ-১: বিএনপি’র মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পাবনা-১: জামায়াতের নাজিবুর রহমান মোমেন, মেহেরপুর-১: জামায়াতের মাওলানা তাজ উদ্দীন খান (১,২২,৮২৯) বিজয়ী, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাসুদ অরুন (১,৪,২২৪)। মেহেরপুর-২ জামায়াতের নাজমুল হুদা (৯৪,১৬৮) বিজয়ী, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আমজাদ হোসেন ৮৫,৬৮৯, কুষ্টিয়া-১: বিএনপি’র রেজা আহমেদ বাচ্চু, কুষ্টিয়া-২: জামায়াতের আব্দুল গফুর (১,৮৯,৮১৬) বিজয়ী, প্রতিদ্বন্দী বিএন?পি’র ব?্যা?রিষ্টার রা?গিব রউফ চৌধুরী (১,৪৩,২৮২), কুষ্টিয়া-৩: মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪: জামায়াতের আফজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-২: জামায়াতের রুহুল আমীন (২,১০,১১১) বিজয়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র মাহমুদ হাসান খাঁন বাবু (১,৬৩,২৯৯), বাগেরহাট-৩: বিএনপি’র ফরিদুল ইসলাম, খুলনা-৪: বিএনপি’র আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫: বিএনপি’র আলি আসগার, সাতক্ষীরা-১: জামায়াতের ইজ্জত উল্যাহ, সাতক্ষীরা-২: জামায়াতের মুহাদ্দিস আবদুল খালেদ, সাতক্ষীরা-৩: জামায়াতের রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪: জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলাম, বগুড়া-১: বিএনপি’র কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২: বিএনপি’র প্রার্থী মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩: বিএনপি’র আবদুল মহিত তালুকদার, বগুড়া-৫: বিএনপি’র গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৬: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পঞ্চগড়-১: বিএনপি’র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির বিজয়ী (১,৭৬,১৬৯), প্রতিদ্বন্দ্বি এনসিপি’র সারজিস আলম (১,৬৮,০৪৯), পঞ্চগড়-২: বিএনপি’র ফরহাদ হোসেন আজাদ (১,৭৪,৬৫০), প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের সফিউল আলম (১,২৮,৮৬২), ঠাকুরগাঁও-১: বিএনপি’র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নীলফামারী-১: জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২: জামায়াতের আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩: জামায়াতের ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী-৪: জামায়াতের আব্দুল মুনতাকিম, কুড়িগ্রাম-২: এনসিপি’র ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩: জামায়াতের মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪: জামায়াতে ইসলামীর মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
ওয়াদা পরিপূর্ণ করতে পেরেছি-সিইসি: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, জাতিকে যে ওয়াদা আমরা দিয়েছিলাম, সেই ওয়াদা পরিপূর্ণ করতে পেরেছি। আমরা সবাইকে দেখাতে চাই, আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের কোনো লুকোচুরি নেই। আমরা সম্পূর্ণ ট্রান্সপারেন্ট একটা নির্বাচন দেয়ার চেষ্টা করেছি। বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশনের ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সবাই মিলে অনেক দিনের একটি প্রত্যাশিত সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। আমরা সবাই মিলে জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি। পরম করুণাময়ের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। আমাদের যে চেষ্টা, যে কষ্ট, সেটা সার্থক হয়েছে বলে আমরা মনে করি। তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে আমরা বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখছিলাম মোটামুটিভাবে এদেশের ইতিহাসের নির্বাচনের ইতিহাসে যেকোনো মানদণ্ডে যদি আপনি বিচার করেন, এটাকে একটা বেশ ভালো নির্বাচন হিসেবে গণ্য করা যায়। আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমরা ওয়াদা করেছিলাম যে, একটা উৎসবমুখর পরিবেশে একটা নির্বাচন আমরা উপহার দেব জাতিকে। নিরপেক্ষ একদম সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং ক্রেডিবল একটা ইলেকশন উপহার দেব এবং আমরা বিশ্বাস করি, আমরা এটা পেরেছি উপহার দিতে পেরেছি। এটা সবাই স্বীকৃতি দিচ্ছে।
সিইসি বলেন, আমার খুবই ভালো লেগেছে। কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি সীমাবদ্ধতা থাকবেই। এটা ১৮ কোটি লোকের দেশ। ১২৭ মিলিয়ন ভোটারের দেশ। আর রেফারেন্ডামসহ যদি ধরি ২৫৪ মিলিয়ন ব্যালট আমাদেরকে ছাপাতে হয়েছে, বিলি করতে হয়েছে। আপনাদের সহযোগিতা না হলে কিন্তু আমরা এই সুন্দর নির্বাচনটা উপহার দিতে পারতাম না। আমরা আপনাদের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। রাজনৈতিক নেতাদের কাছে কৃতজ্ঞ। রাজনৈতিক দলের কাছে কৃতজ্ঞ।
ফল ‘ঝুলিয়ে’ রাখার অভিযোগ জামায়াত আমিরের: বেশ কিছু আসনে রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা না করে ‘ঝুলিয়ে’ রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ এর শরিক নেতাদের নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। বলেন, বেশকিছু আসনে আমাদের জানামতে আমরা এগিয়ে আছি। গণনাও কমপ্লিট। কিন্তু রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা করছেন না। ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমরা বুঝছি না কেন। মাঝখানে আবার ওয়েবসাইটে দিয়ে উধাও করে দেয়া হল। ওনারা একটু আগে একদম প্রথম পর্যায়ের ১০টা, ১২টা ফল দিচ্ছেন। আমাদের বুথ ফেরত যে শিট এসেছে সেখানে আমরা দেখেছি, এগিয়ে আছি। কিন্তু এটা নিয়ে লোকালি বিভিন্ন টালবাহানা করা হচ্ছে।
শফিকুর রহমান বলেন, অনেক কিছু তো হয়েছে। কিন্তু এখনি ফাইনালি বলতে চাচ্ছি না। আমরা আগে পুরো ফলটা নিই। তারপরে সব বলব। কিছু আসনে ‘ইঁদুর বিড়াল খেলা’ চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসন এখনো ঝুলে থাকবে কেন। এগুলো সুস্থ ধারার রাজনীতির উদাহরণ না। তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আমরা টানাটানি করবো না। এবং পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমরা ফিরে যেতে চাই না। আমরা ইতিবাচক ধারার রাজনীতিতে যেতে চাই। রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয় তাহলে এ কথা মেনে নিতে হবে-পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে কোনো নির্বাচনও হয় না, রাজনীতিও হয় না।
এসময় জামায়াত আমিরের এক পাশে ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আরেক পাশে ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
