রোববার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৫ ১৪৩২   ২০ শা'বান ১৪৪৭

বেনজীর-নাফিসার প্রতিষ্ঠান থেকে বডিওর্ন ক্যামেরা ক্রয়

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৬:০০ এএম, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রোববার

দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মেয়ের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট টেকনোলজিস’ থেকে কেনা হলো বডিওর্ন ক্যামেরা। এই ক্যামেরা দিয়ে এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। সেই ক্যামেরা যথাযথ কাজ না করলে বেশ সমস্যায় পড়তে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আওয়ামী লীগের আমলে বিশেষ সুবিধা পাওয়া বেনজীর আহমেদের এক মেয়ে ও সাবেক অর্থমন্ত্রীর মেয়ে নাফিসা কামালের প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস থেকে অন্তর্বর্তী সরকার বডিওর্ন ক্যামেরা কেনার কারণে খোদ পুলিশের মাঝেই সমালোচনা রয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি আওয়ামী লীগ আমলে পুলিশের সব টেন্ডার পেয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবারের বডিওর্ন ক্যামেরা আমদানিতেও। এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে ক্যামেরা পৌঁছে গেলেও তথ্য দিতে নারাজ পুলিশের টেলিকম বিভাগ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় দুর্নীতি ও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চক্রান্ত করছে প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের দোসররা।

গত বছরের ৯ আগস্ট সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ২৬৯ কোটি টাকায় ৪০ হাজার বডিওর্ন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খোঁজ পেয়ে আবারও কাজ পেতে উঠেপড়ে লাগে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে পুলিশের সব টেন্ডার পাওয়া প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস। ওই দিনই প্রজ্ঞাপন জারি হয় ক্রয়ে স্বচ্ছতা আনতে সব কেনাকাটা হবে ইউএনডিপির মাধ্যমে। এরই মধ্যে সোর্স মানির টাকায় অতি গোপনে স্মার্ট টেকনোলজিস থেকে চায়না ক্যামেরা কিনেছে পুলিশ বিভাগ।

স্মার্ট টেকনোলজি ছাড়াও চারটি প্রতিষ্ঠান-দাহুয়া, টিডিটেক, কেডাকম ও অকজন এই বডিওর্ন ক্যামেরা সরবরাহে যুক্ত ছিল। তবে ক্যামেরা ক্রয়ের তথ্য থাকলেও তা অস্বীকার করেছে দাহুয়া। অন্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কেনাকাটার আদ্যোপান্ত জানতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে যোগাযোগ করা হলেও বিস্তারিত জানা যায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লাগামহীন দুর্নীতি করতেই গোপনীয়ভাবে আনা হয়েছে এই পণ্য।

এ ছাড়া প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা আওয়ামী লীগের দোসররা নির্বাচন বানচাল করতেও এমনটি করতে পারে। বিশেষজ্ঞ রেজাউল করিম সোহাগ জানান, নির্বাচনের সময় ক্যামেরা যথাযথভাবে কাজ না করলে সমস্যায় পড়তে হবে পুলিশকে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এরই মধ্যে ক্যামেরাগুলো পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। এর চেয়ে বেশি তিনি কিছু জানেন না।

জানা গেছে, দফায় দফায় বৈঠক করে ৪০ হাজার বডিওর্ন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত আগস্টে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল, আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশের জন্য ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার।

এদিকে বডিওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা ছিল। এই ক্যামেরা কিনতে কত খরচ হবে, সেটি নিয়েও কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি পুলিশ সদর দপ্তর।

জানা গেছে, ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখল ঠেকাতে এই বডি ক্যামেরাগুলোতে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি। যদি কেউ ছুরি, দা, হকিস্টিকসহ ভোটকেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করে সে ক্ষেত্রে বিশেষ আলার্ম বা সতর্কতা দেবে বডি ক্যামেরা।

বডিওর্ন ক্যামেরা হলো একটি পোর্টেবল ভিডিও ক্যামেরা, যা পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের পোশাক বা ইউনিফর্মে যুক্ত করে রাখেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এই ক্যামেরার ব্যবহার করে থাকেন।