বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৩ ১৪৩২   ১৭ শা'বান ১৪৪৭

জামায়াত জোট সরকার গঠন করলেও ধর্মরাষ্ট্র হবে না

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৮:১১ এএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘জামায়াত জোট সরকার গঠন করলেও দেশ ধর্মরাষ্ট্রে পরিণত হবে না। গণতান্ত্রিক সরকার হবে এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়বে। নারী ও সংখ্যালঘুদের সব সমস্যা সমাধান করবে। এটি আমাদের অঙ্গীকার এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের অংশ।’

ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ‘দ্য উইক’-এর দিল্লির ব্যুরোপ্রধান নম্রতা বিজি আহুজা। এটি আগামী রোববার ছাপা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হবে। এই সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর দলের লক্ষ্য ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বর্তমানে এটি শুধু নির্বাচনী সমঝোতা, কোনো আদর্শিক একীভূতকরণ নয়।

দ্য উইক জানতে চায়, সমালোচনা আছে, জামায়াত চরম ডানপন্থি আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে। সংখ্যালঘুদের উদ্বেগের বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, জোট এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। নির্বাচনী সহযোগিতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজন হলে এটি ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। বর্তমানে আমাদের আলাদা ইশতেহার রয়েছে। জামায়াত তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তারা জানিয়েছে, পুরোনো আদর্শের ভিত্তিতে সরকার গঠন করবে না। তারা এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি এবং জাতীয় সরকারের কথা বলছে। আমাদের অবস্থান, বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকারে আঘাত লাগলে আমরা এই সম্পর্ক ছিন্ন করতে দ্বিধা করব না।

নাহিদ ইসলাম জানান, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর দল জোটগতভাবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নতুন দল হিসেবে সব আসনে জয় নিশ্চিত করা কঠিন হলেও সংসদে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পৌঁছে দিতে এই জোট প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং সংসদে জায়গা করে নিতে এই সমঝোতা জরুরি।’

প্রাথমিকভাবে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনের কথা ভাবলেও ওসমান হাদি হত্যার পর সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। নাহিদ ইসলামের মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাদের হত্যার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। এই অপশক্তিকে রুখতে আদর্শিক একাকিত্বের চেয়ে বড় ঐক্য গড়া জরুরি।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রশংসা করে নাহিদ বলেন, সংস্কারের জন্য গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া একটি বড় সাফল্য। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানুষের সব প্রত্যাশা পূরণে এই সরকার পুরোপুরি সফল হয়নি। পুরোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো দ্রুত সংগঠিত হয়ে সংস্কারের পথ আটকানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম সাফ জানিয়েছেন, তারা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চান, তবে ভারতকে তার পুরোনো নীতি বদলাতে হবে। সীমান্ত হত্যা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম দাবি হবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। ভারত যদি তাঁকে ফেরত দেয়, তবেই সুসম্পর্ক সম্ভব। অন্যথায় সম্পর্ক রক্ষা কঠিন হবে।’

নাহিদ ইসলাম বিশ্বাস করেন, অভিজ্ঞ দলগুলো অতীতে ভালো শাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ এখন তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহী। সংসদে শক্তিশালী অবস্থান তৈরির মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রূপ দেওয়া সম্ভব।