পাকিস্তান কি তাহলে ৮ বছরের পুরোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিচ্ছে?
সাপ্তাহিক আজকাল
প্রকাশিত : ০১:৪৬ এএম, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
যেকোনো বৈশ্বিক ইভেন্টে সবচেয়ে রোমাঞ্চ ও হাইভোল্টেজ মুহূর্তের জন্ম দেয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ। তাদের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ থাকায় আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) ইভেন্টেই ক্রিকেটভক্তদের ভরসা। কিন্তু আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। যে কারণে বড় অঙ্কের ক্ষতি হতে পারে আইসিসি থেকে শুরু করে সব প্রতিষ্ঠানের। পাকিস্তান এর নেপথ্য কারণ না জানালেও, অনেকের মতে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত।
আইসিসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে করা বৈষম্যের সিদ্ধান্তই এর ভারত ম্যাচ বয়কটের নেপথ্য কারণ বলে উল্লেখ করেছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজ। ভারতের মাটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে বাদ দেয় আইসিসি। তাদের প্রতি সংহতির কথা জানিয়ে আগেই প্রতিবাদ জানিয়েছিল পিসিবি। এমনকি তারা বিশ্বকাপ বয়কটেরও ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ছাড়াও ৮ বছর আগের পুরোনো একটি চুক্তির বিষয় সামনে এসেছে।
পিসিবির এক সূত্র সংবাদমাধ্যম ডনকে জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে ভারতের বিরুদ্ধে আইসিসির ডিসপিউট রিসলিউশন কমিটির (ডিআরসি) কাছে দেওয়া অভিযোগের কার্যবিধি অনুসারে বর্তমানের এই অবস্থান। যার শুরুটা হয়েছিল পিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যকার ২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত একটি এমওইউ চুক্তি ভারত লঙ্ঘন করার প্রেক্ষিতে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারত-পাকিস্তান ৬টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে। বিনিময়ে পিসিবি আইসিসির ‘বিগ থ্রি’ রাজস্ব-ভাগাভাগি মডেলে সমর্থন দেয়। যার অধীনে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড বড় অঙ্কের রাজস্ব পায় বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার কাছ থেকে।
ডিআরসিতে ওই অভিযোগ নিয়ে শুনানির অভিজ্ঞতা জানিয়ে সূত্রমতে ডন বলছে, ‘শুনানিতে বিসিসিআইয়ের কাছে পাকিস্তানে সফর না করার ব্যাখ্যা চায় পিসিবি। জবাবে বিসিসিআই কারণ জানাতে বাধ্য নয় বলে উল্লেখ করে, পরবর্তীতে ব্যাখ্যা হিসেবে হাজির করে– এটি ভারতীয় সরকারের সিদ্ধান্ত।’ ২০১৮ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে যাওয়ার কথা ছিল ভারতের। সিরিজ না হওয়ার ক্ষতিপূরণ বাবদ বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে ৬৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে পিসিবি। আইসিসির ডিআরসি উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে দেয়।
ডিআরসির সেই সিদ্ধান্তকেই এবার হাতিয়ার হিসেবে দাঁড় করাতে পারেন পিসিবির কর্মকর্তারা। কারণ ভারতের সঙ্গে না খেলার সিদ্ধান্তটিও এসেছে পাকিস্তানের সরকারের তরফ থেকে। ২০১৮ সালে বিসিসিআইয়ের দেওয়া যুক্তি এবং ডিআরসির সিদ্ধান্তের উদাহরণ দিয়ে শাস্তি এড়াতে চাচ্ছে পিসিবি। এবার ভারতের সঙ্গে না খেলার বিষয়ে নিজেদের অপারগতা হিসেবে ‘সরকারি নির্দেশনা’র কথা তারা আইসিসিকে জানাবে। প্রায় একই কারণে ভারতকে ছাড় দেওয়া হলে কেন তাদের শাস্তি পেতে হবে সেই প্রশ্নও তুলবেন পিসিবির দায়িত্বরতরা। প্রয়োজনে আইসিসির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতেরও দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ আছে মহসিন নাকভিদের সামনে।
