বুধবার   ১১ মার্চ ২০২৬   ফাল্গুন ২৬ ১৪৩২   ২২ রমজান ১৪৪৭

আল জাজিরাকে সজীব ওয়াজেদ জয়

‘হাসিনা আর রাজনীতি করবেন না’

আজকাল ডেস্ক

সাপ্তাহিক আজকাল

প্রকাশিত : ০৫:২৭ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

 

  •     ইন্ডিয়া শেখ হাসিনার সেফ হ্যাভেন
  •     ২০২৪ এর নির্বাচন আমলারা হাতে তুলে নিয়েছিল
  •     আমার মা আন্দোলনকারিদের হত্যার নির্দেশ দেননি
  •     বাংলাদেশে ৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের

 
  

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে গেলে আর রাজনীতি করবেন না। তিনি অবসরে যাবেন। এমন কথাটি বলেছেন আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার মুখপাত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। শেখ হাসিানার সন্তান জয় ৩ দিন আগে বিশ্বখ্যাত টিভি চ্যানেল আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজ বাসভবনে তিনি এ সাক্ষাতকার প্রদান করেছেন। আল জাজিরা’র সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল ‘তোমার মা কি রাজনীতি থেকে অবসরে যাচ্ছেন? বাংলাদেশে ফিরে গেলে কি তিনি আর রাজনীতি করবেন না?’জবাবে জয় বলেন, না। সি ইজ ওল্ড ( সে একজন বৃদ্ধা)।  সে অবসরে যেতে চান। আগেই তিনি এ কথা বলেছিলেন। প্রশ্ন: তা হলে কি হাসিনা যুগের সমাপ্তি? জয়: সম্ভবত। প্রশ্নঃ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে পুনরায় রাজনীতির সুযোগ পেলে তা কি হাসিনা ছাড়াই হবে? জয়ঃইয়েস। আওয়ামী লীগ ৭০ বছরের পূরনো একটি রাজনৈতিক দল। ৪০ থেকে ৫০ ভাগ মানুষ এ দলটিকে সর্মথন করে। ৬ থেকে ৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের। এ দলটি হাসিনা থাকলে কিংবা না থাকলে এগিয়ে যেতে পারবে। 
আল জাজিরা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সাপ্তাহিক আজকালের পাঠকের জন্য তার সারাংশ তুলে ধরা হলো। হাসিনার মৃত্যুদন্ড ও বাংলাদেশে তাকে এক্সট্রেডিশন প্রশ্নে জয় বলেন, একটি ক্যাঙ্গারু কোর্টে আমার মায়ের বিচার হচ্ছে। সেখানে আমার মা নিজের একজন আইনজীবিও নিয়োগ দেবার সুযোগ পান নি। আর বন্দী বিনিময় একটিা ফ্রি ফেয়ার জুডিসিয়াল প্রোসেসের বিষয়। ভারত একটি গনতান্ত্রিক ও আইনের দেশ। তারাও এ বিচার প্রক্রিয়া দেখে নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত নেবে। অন্য কোন দেশে শেখ হাআিসনা যেতে চান কিনা কিংবা যাওয়ার চেষ্টা করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, ভারত আমার মায়ের জন্য সেফ হ্যাভেন। সর্বোচ্চ নিরাপদ দেশ। সেটা আমি ও আমার মা উভয়েই মনে করি। আর ইন্ডিয়া-বাংলাদেশের মধ্যে উত্তেজনার যে কথা বলা হচ্ছে তা আমার মাকে নিয়ে নয়। বাংলাদেশে জঙ্গিদের উত্থান ও ভারতের ইস্টার্ন পার্টে বাংলাদেশি টেরোরিস্টদের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়েই এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। 
জয়ের খালাতো বোন ও যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপের পদত্যাগ ও দূনীতি প্রশ্নে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশ সরকার প্রমান করতে পারেনি। যুক্তরাজ্যের ওয়াচডগ তাকে নির্দোষ বলেছে। টিউলিপ তার সরকারকে বিব্রত করতে চায় নি। তাই পদত্যাগ করেছে।  
দূনীতি করে আমেরিকায় জয়ের বাড়ি ও ব্যবসা নিয়ে প্রশ্ন করেন আলজাজিরার সাংবাদিক। জবাবে জয় বলেন, এই বাড়িটি দেখছেন এটিই আমার একমাত্র সম্পত্তি। কোন ব্যবসা নেই।  আমি এ বছরেই (২০২৬) আমেরিকার নাগরিক হলাম। আমার দূনীর্তি থাকলে এ সময়ে নাগরিকত্ব পেতাম না। 
আলজাজিরার সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল ‘তোমার মার নির্দেশে জুলাই আন্দোলনে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ১১৪ জনকে গণকবর দেয়া হয়েছে। তোমার মা কি এ জন্য ক্ষমা চাইবে?  জবাবে জয় বলেন, আগষ্টের সরকার বিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে মিসহ্যান্ডেলিং হয়েছে। তবে আমার মা মানুষ হত্যার নির্দেশ দেন নি। যদি তিনি আন্দোলনকারিদের হত্যাই করতেন তাহলে ক্ষমতায় থাকতেন ।আর গণকবরের কথা আমি শুনিনি। ২৪ এর গনঅভ্যুত্থান ও সরকারের পতন থেকে তোমাদের কোন শিক্ষা হয়েছে কি? তোমরা রাজনৈতিক দল ব্যান্ড করেছো। সাধারন মানুষের ওপর নির্যাতন করেছো। তোমরা কি অনুতপ্ত না? সজিব ওয়াজেদ জয় বলেন, আওয়ামী লীগ কোন রাজনৈতিক দল ব্যান্ড করেনি। একটি থার্ড পার্টির মামলায় তা কোর্ট করেছিল। আমার মা এতে জড়িত নন। 
২০১৮ ও ২০২৪ এর বির্তকিত নির্বাচন প্রশ্নে জয় বলেন, আমি ও আমার মা ২০২৪ সালের অনিয়মের নির্বাচন চাইনি। আমলারা (প্রশাসন) সে নির্বাচন হাতে তুলে নিয়ে ছিল। এতে আমরা ক্ষুব্ধ ছিলাম। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে আমরাই জিততাম। এমন একাধিক জরিপ আমাদের হাতে ছিল। আর ২০২৪ এ নির্বাচনেতো বিরোধীরা অংশগ্রহনই করেনি।